তেলের অবৈধ মজুতেই সর্বনাশ

জিন্নাতুন নূর
দেশজুড়ে চলছে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও চুরির মহোৎসব। সরকার যখন জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং তেলের অবৈধ মজুতদারি বন্ধে হার্ডলাইনে হাঁটছে তখন জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুতের বিষয়টি কৃত্রিম তেল সংকটের পেছনে অন্যতম একটি কারণ হয়ে উঠছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তেল পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নানা ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও তেলের অবৈধ মজুতেই হচ্ছে মূল সর্বনাশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর পর এবং সরকার যখন তেল ব্যবহারে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানায়। এর পর থেকেই গত এক মাসে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত। ফিলিং স্টেশনে তেল পাওয়া না গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি ও জেলা শহরগুলোর বাজার ও দোকানে বেশি দামে অবৈধভাবে সংগ্রহকৃত জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী ফিলিং স্টেশনের সঙ্গে চুক্তি করে কালোবাজারে তেল বিক্রি করছেন।

খোদ ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি কিনে চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় অবৈধভাবে বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এবং গুদামে তেল সংরক্ষণ করছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে, তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে গত ৩০ মার্চ দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়। এ ব্যাপারে ১৯১টি মামলা করা হয়। তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।

এছাড়া গত ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচালিত হয় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান। এতে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা করা হয়। ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে জানান, উল্লিখিত পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, যারা অবৈধ মজুতদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকার যদি পাম্পগুলোতে যথাযথভাবে তেল সরবরাহ করেই থাকে তাহলে তো কোনোরকম তেল সংকট হওয়ার কথা না। তাহলে পাম্পগুলোতে তেল নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না এবং তলের সরবরাহরে মধ্যে কোনো সমস্যা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights