দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নামিবিয়ার চমক

অনলাইন ডেস্ক

দশ মাস আগের সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি এখনও ম্লান হয়নি। আর এবার ঠিক যেন সেই গল্পেরই পুনরাবৃত্তি ঘটাল নামিবিয়া। ওপেনারদের দারুণ সূচনার ওপর ভর করে পরে বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে আবারও শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নিল তারা।

উইন্ডহুকে শুক্রবার নামিবিয়ার জয় ১৮ রানে। নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে স্বাগতিকদের ১৬৩ রানের জবাবে প্রোটিয়ারা যেতে পারে ১৪৫ পর্যন্ত।

মূল অধিনায়কসহ নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনেককে এই সফরে বিশ্রাম দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপরও নামিবিয়ার জয়ের মাহাত্ম্য কমছে না একটুও।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে দুটিই জিতল আইসিসির সহযোগী দেশটি। একই মাঠে গত বছরের অক্টোবরে কুইন্টন ডি কক, রিজা হেনড্রিকসদের নিয়ে গড়া প্রোটিয়া দলের বিপক্ষে শেষ বলে জিতেছিল তারা।

১০ মাস আগের ওই ম্যাচের ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ রুবেন ট্রাম্পেলমান এবারও দলের জয়ে রাখেন উল্লেখযোগ্য অবদান। এক ছক্কায় ৬ বলে ১২ রান করার পর, হাত ঘুরিয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার। যদিও ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা হন আরেক বাঁহাতি জেজে স্মিট।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় নামিবিয়া। লরেন স্টিনক্যাম্প ও ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৫৮ বলে ৮৪ রান। তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৯ বলে ৪১ রান করে ফেরেন স্টিনক্যাম্প। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৩৮ বলে ৬০ রান করে ১৩তম ওভারে বিদায় নেন ফ্রাইলিঙ্ক।

এরপর নিয়মিত উইকেট হারানোয় নামিবিয়ার সংগ্রহটা আরও বড় হয়নি। অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাজমাস তিন নম্বরে নেমে দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন ১৭ বলে।

৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার অফ স্পিনার প্রেনেলান সুব্রায়েন। মার্কো ইয়ানসেনের যমজ ভাই ডুয়ান ইয়ানসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার ম্যাচে ৩২ রানে নেন ২ উইকেট। ১৭ রানে ২ উইকেট নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বিয়ন ফোরটান।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস, জর্ডান হেরমান, টনি ডি জর্জি দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।

তিন নম্বরে নেমে বলতে গেলে দলকে একাই টানেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ১৮তম ওভারে তিনি (চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ৫০ বলে ৭৫) বিদায় নিলে দক্ষিণ আফ্রিকাও ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায়।

শেষ ওভারে ২৮ রানের প্রয়োজনে, একটি ছক্কায় প্রথম দুই বলে ৮ রান নেন ইয়ানসেন। এরপর আর কিছু করতে পারেননি তিনি। তাকে (১৭ বলে ২৫) অন্য প্রান্তে রেখে শেষ দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন স্মিট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights