দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদয়ের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি

সুযোগের কী দুর্দান্ত সদ্বব্যবহারটাই না করলেন তাওহীদ হৃদয়! দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন এই ব্যাটার। কঠিন সময়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকেও ঘোর বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন হৃদয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২০৪ রানে অপরাজিত আছেন হৃদয়। পচেফস্ট্রুমের এনডব্লিউসি ওভালে আগের দিনের ৪ উইকেটে ২০১ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। ৭৫ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় ৩৩৫ বলে ২২টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে নিজের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে প্যাট্রনস ট্রফিতে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেখানে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন সাবেক ওপেনার বিদ্যুৎ। মাঝে ২৩ বছরে দ্বিশতকের কাছাকাছি গিয়েছেন শুধু জাকির হাসান (ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৭৩) ও জাকের আলি অনিক (পাকিস্তান শাহিন্সেএ বিপক্ষে ১৭২)।

বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের এক অভিজাত তালিকাতেও নাম লিখিয়েছেন হৃদয়। সেখানে তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম (২০০) ও সাকিব আল হাসান (২১৭)। মুশফিক ও সাকিব যথাক্রমে ২০১৩ ও ২০১৭ সালের বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

৭৫ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন তাওহীদ হৃদয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন জাকের আলী। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দুজনই দলের রান এগিয়ে নেন। সঙ্গে ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকেও ছুটছিলেন তারা। তাওহীদ লক্ষ্যের পথে স্থির থাকলেও জাকের সুযোগ নষ্ট করেন।

তাওহীদ চার মেরে ১৬৬ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে ১৩ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান। জাকের একই পথে ছিলেন। কিন্তু নতুন বল নেওয়ার পর জাকের পেসার মোরেকির বল উইকেটে টেনে বোল্ড হন ৯৪ রানে। ৬ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় তাকে। জাকেরের সঙ্গে তাওহীদের জুটি ছিল ১৫১ রানের।

সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন তাওহীদ ও সাইফ উদ্দিন। তাদের জুটিতে আসে ১৮৫ রান। সাইফউদ্দিন ৮৭ রানে আউট হলে দিনের খেলা শেষ হয়। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৪৭১ রান তুলেছে। তাওহীদ অপরাজিত আছেন ২০৪ রানে। এখনও ৪১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে করেছিল ৫১২ রান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights