দশমিনায় নদীভাঙনে সড়ক ও ২০ কবর বিলীন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হাজিরহাট, কেদিরহাট ও গছানি বাজার সংযোগ সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি গোরস্থানের অন্তত ২০টি কবরও নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনের কারণে আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নিচ্ছেন। বুধবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিদল, দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার পর হঠাৎ করে উপজেলার হাজিরহাট জামে মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে ভাঙন দেখা দেয়। তেঁতুলিয়া নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোতে হাজিরহাট লঞ্চঘাটের উত্তর-পশ্চিম পাশে নদীর তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিওব্যাগ মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। এরপর সংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ ও মাটি ধসে নদীতে চলে যায়।

এতে সড়কটির নদীর সঙ্গে সংযোগস্থলে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয় এবং ওই পথে যান ও মানুষের চলাচল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভাঙনের কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার বসতঘরের অদূরেই সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। কখন আমাদের বসতঘরও নদীতে চলে যায়, সেই ভয় রয়েছে। সরকারের কাছে দ্রুত বাড়িঘর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দশমিনা উপজেলার ৫৫/২ডি পোল্ডারের দুটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই দুই পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে কিছু জমি ও একটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো বসতঘর ভেঙে পড়েনি এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধ এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনর্নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আইরিন আক্তার বলেন, ৫৫/২ডি পোল্ডারের দুটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দুই পয়েন্টে প্রায় ১২০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে কিছু জমি ও একটি সড়ক ভেঙে গেলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights