দাগনভূঞায় আট কোটির সেতু ব্যবহারে ভরসা মই

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর দাগনভূঞায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আশ্রাফপুর-মোমারিজপুর সংযোগ সেতু ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচু সেতুতে উঠতে দুই পাশে বাঁশ ও কাঠের মই ব্যবহার করতে হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে এমন অবস্থায় থাকায় হতাশা বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেতুটির ৭০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, সেতুর একপাশে কৃষিজমি ও অন্যপাশে ঘরবাড়ি থাকায় ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার কারণে সেতুর সড়ক সংযোগ করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দাঁড়িয়ে থাকা সেতুর দুই পাশে কাঠ ও বাঁশের মই দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন তারা। যার কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকেই।

কৃষক কবির আহমদ বলেন, ‘সেতু নির্মাণ হওয়ার খবরে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এর দুই পাশে রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এতে সেতু আমাদের কোনো কাজে লাগছে না।’

মাতুভূঞা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হারিছ আহমদ পেয়ার বলেন, বর্ষার আগে দুই পাশের রাস্তা নির্মাণ না হলে মাতুভূঞা ও বেকের বাজারগামী লোকজন ব্যাপক অসুবিধায় পড়বেন।

এ বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা প্রকৌশলী মাছুম বিল্লাহ বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। জায়গার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্রিজ নির্মাণের সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে সময় বাড়ানোর জন্য এলজিইডির চিফ ইঞ্জিনিয়ার সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছেন। এটি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। যদি সময় বৃদ্ধি করা যায়, তবে দ্রুতই বাকি নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তা না থাকলে সেতু জনগণের কোনো উপকারে আসবে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights