দিনাজপুরের কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরের কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের
অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লোকমান হাকিমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, দুর্নীতি, এবং
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে তিনি এর আগে কারাভোগও
করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লোকমান হাকিম ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল কাশিপুর উচ্চ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তবে ২০১৪ সালের ১২ মার্চ নানা অনিয়ম
ও জালিয়াতির কারণে তাকে চূ—ান্ত বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিএড
কোর্সের জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছিলেন।
বিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি দিনাজপুর ইকবাল হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
ছিলেন। সেখানেও দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বরখাস্ত হন। এছা—া দারুল ইহসান
বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া ক্যাম্পাস খুলে জাল সনদ বিক্রির দায়ে ২০১১ সালে তাকে
ভ্রাম্যমাণ আদালত গ্রেপ্তার করে।
অভিযোগ রয়েছে, কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় তিনি ৫০ লাখ টাকার
নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন এবং অভ্যন্তরীণ আয়ের ৪০ লাখ টাকা নিজের বিলাসবহুল বা—ি
নির্মাণে ব্যয় করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে ফরম পূরণের জন্য
বিপুল অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পিবিজিএসআই স্কিমের আওতায় ২০২২Ñ২৩ অর্থবছরের ৫
লাখ টাকার ভুয়া বিলÑভাউচার তৈরি করেন তিনি। এছা—া বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র কেনার
জন্য বরাদ্দ ৫২ হাজার টাকার কোনো হিসাব প্রদান করেননি।
এছা—া একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়েও চাকরি না দেওয়ার
অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে
মো. ওয়াজেদুল ইসলামের কাছ থেকে ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেও অন্য একজনকে
নিয়োগ দেন তিনি। অভিযোগ আরও রয়েছে, তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায়
কথা বলতেন এবং ছাত্রীদের হিজাব পরায় বাধা দিতেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লোকমান হাকিম। তিনি দাবি করেন, “আমার
বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে
প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন
এলাকাবাসী। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ
নেওয়ার আহ¡ান জানিয়েছেন।
