দিনাজপুরে জমজমাট ঘোড়ার হাট

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর:

ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুরের চেরাডাঙ্গী মেলা উদ্বোধনের আগেই বসে জমজমাট ঘোড়ার মেলা বা ঘোড়ার হাট! বাহারী নামের ঘোড়া নিয়ে গ্রাম-বাংলার চেরাডাঙ্গি মেলায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রির জন্য ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজা বাবু, বিজলী রানী, রাস্তার পাগল, রংবাজ, পারলে ঠেকাও, কাজলি, তাজিয়া, কুমার রাজা, বিজলী, বাহাদুর এমন বাহারি নামের ঘোড়া বিক্রির জন্য দাড়িয়ে আছে গ্রাম বাংলার এই মেলায়। অথচ এক সময় এই মেলায় ঘোড়া ছাড়াও গরু-মহিষ, উট এমনকি দুম্বাও বিক্রি হতো।এখন তার পরিবর্তে জায়গা করে নেয় গরু, মহিষ এবং ঘোড়া। তবে ঘোড়ার উপস্থিতি দেখে মনে হবে শুধু ঘোড়া বিক্রির জন্য বসেছে ঘোড়ার হাট। এবার কমপক্ষে ৬ শ ঘোড়া বিক্রির জন্য এসেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানায়। ২০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা দামের ঘোড়া উঠেছে। ঘোড়া কেনা-বেচা মেলা উদ্বোধনের ৩দিন আগে থেকে এক সপ্তাহ চলে। তবে মেলায় ঘোড়ার আমদানি চোখে পড়ার মতো।

শুক্রবার ৭৯ বছর আগে থেকে চলে আসা মাসব্যাপী এই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী চেরাডাঙ্গী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
ঐতিহ্য রয়েছে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বর্গাকার এই মেলাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রায় ২০গ্রামে চলে মেজবান আয়োজনের। যদিও দিন দিন এসব কমতে শুরু করেছে। তবে মেলায় ঘোড়া বিক্রি হলেও বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগরদলা, পুতুল নাচ এবং সংসারের যাবতীয় আসবাবপত্র কাঠ, স্টিল ও প্লাস্টিকের ফার্নিচার, মিষ্টান্ন, মসলা, জুতা ও কাপড়সহ ৫০০ থেকে ৬০০ বিভিন্ন রকমের পন্য সামগ্রীর পসরা বসেছে এ মেলায়।

ঘোড়া বিক্রেতারা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে তারা ছোট-বড় বিভিন্ন রংয়ের ঘোড়া নিয়ে এসেছেন। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম দেখে আশা করছেন, অধিকাংশ ঘোড়া বিক্রি হয়ে যাবে। মেলা উদ্বোধনের আগে সপ্তাহ খানেক ঘোড়া কেনা বেচা চলে। তবে মেলা উদ্বোধনের ২দিন পর বিক্রি শেষ হয়ে যায়।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের মহিসমারি এলাকা থেকে আসা মইনউদ্দিন জানান, প্রতিবছরই এই মেলায় ঘোড়া কেনাবেচা করতে আসি। এবার ৪টি ঘোড়া এনেছিলাম। এর মধ্যে ২টি বিক্রি করে ৫০হাজার টাকা লাভ করেছি। এখন রয়েছে সম্্রাট ও মালবাহি নামে ঘোড়া দুটি।
মেলায় আসা কুড়িগ্রামের রবিউল ইসলামের ১২টি ঘোড়া সবার নজর কেড়েছে। এর মধ্যে ‘পারলে ঠেকাও’ নামের একটি দ্রুতগামী ঘোড়ার দাম হাঁকানো হচ্ছে ৪ লাখ টাকা। শেখপুরা এলাকার সফল খামারি জাহিদ ইসলাম সোহাগ ঘোড়াটি ৩ লাখ টাকা বলেছেন।
দিনাজপুরের বিরল থেকে আসা ফয়সাল নিশি শশি জানান, বাড়ীতে আমার ছোট্ট ঘোড়ার খামার রয়েছে। আমার একটি দৃস্টিনন্দন ঘোড়াগাড়ীও রয়েছে। ভাড়া দিই। এই মেলায় ৪টি ঘোড়া এনেছি। এরই মধ্যে ২টি বিক্রি করে দিয়েছি। আবার একটি বড় ঘোড়া আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কিনেছে। গত মঙ্গলবার এখানে আসি। ঘোড়া কেনা বেচাই ভালই লাভ হয়।
রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে আসা রহিদুল ঘোড়াওয়ালা তার তিনটি ঘোড়ার দাম ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাঁকছেন।
এছাড়া মিঠাপুকুর থেকে আসা মশিউর রহমানের সখিনা ও বিজলী রানীকে নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ককে আশানুরুপ দাম না পাওয়ায় বিক্রি হয়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরে ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ চেরাডাঙ্গী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।চেরাডাঙ্গী মেলা কমিটির সভাপতি আলফাজ হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন অতিথি বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights