দিনাজপুরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে সাড়া ফেলেছেন চার কৃষক মাচা
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর
তুলনামূলক শ্রম ও ব্যয় কম হওয়ায় মাচা পদ্ধতিতে নাইস গ্রিন জাতের লাউ চাষে বেশি ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা। কীটনাশক প্রয়োগ না করে লাউয়ের চাষ করায় উৎপাদিত লাউয়ের চাহিদা এখন দেশজুড়ে। বিষমুক্ত খাদ্যশষ্য উৎপাদনে মাটি ও পরিবেশ রক্ষার্থে জৈব সার ব্যবহার করে ব্যাপক সাফল্যের সাথে সাড়া ফেলেছেন বোচাগঞ্জের চার কৃষক।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌরসভার মুশিদহাট ফার্ম সংলগ্ন জমিতে মাচা পদ্ধতিতে সল্প সময়ে লাউ চাষ করে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান কৃষকরা। মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করায় পোকামাকড়ের আক্রমণও কম।
বোচাগঞ্জের চারজন কৃষক তোফা, মোস্তফা হোসেন, হাবিবুর রহমান ও আনিসুর রহমান মাস দুয়েক আগে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের আওতাধীন মুশিদহাট ফার্মের ১০একর জমি লীজ নিয়ে মাচা পদ্ধতিতে নাইস গ্রিন জাতের লাউ চাষ শুরু করেন।
কৃষক তোফা জানান, তারা জমিতে চাষ শুরুর ৬০দিনের মাথায় বাজারে প্রথম দিনে ৬ থেকে ৭ হাজার লাউ পাইকারি বিক্রি করেন। সপ্তাহের পাঁচদিন মাচা থেকে লাউ পাড়া হচ্ছে এবং আরও ৭ থেকে ৮ সপ্তাহ লাউ পাড়া হবে। লাউ চাষিরা আশাবাদী ১০ একর জমি থেকে তারা তিন লাখ লাউয়ের ফলন পাবেন। প্রতিটি লাউ ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে পাইকারের কাছে বিক্রি করার পরও সব খরচ বাদ দিয়ে মোট ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তারা।
লাউচাষি আনিসুর জানান, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি লাউ চাষে আগ্রহীর কারণ হলো বাজারে লাউয়ের চাহিদা ব্যাপক। অল্প সময়ে ফলন ধরে আবার পর্যায়ক্রমে বিক্রি করার সুবিধা থাকায় লাউ চাষে আগ্রহী হই। তাদের মতে যে কোনো সবজি জাতীয় ফলন পরিচর্চা করলে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের তুলানায় বেশি লাভবান হবে। মুশিদহাট ফার্ম এলাকায় ১০একর জমিতে মাচায় লাউয়ের চাষ করায় ১৫ থেকে ২০জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। লাউয়ের গাছ লাগানো থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচর্চা কাজে নিয়োজিত কর্মজীবী খেটে খাওয়া মানুষ কাজ পেয়ে খুশি।
বোচাগঞ্জ কৃষি অফিস জানায়, বোচাগঞ্জ উপজেলায় লাউয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ দিন দিন বাড়ছে। ধান, ভুট্টা, গমের পাশাপাশি ডাঙ্গা জমিতে করলা, লাউ, পটল, ভেন্ডি, মিষ্টি কুমড়া, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুঁকছে এলাকার কৃষকরা। স্থানীয় বাজার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোচাগঞ্জের লাউসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি হচ্ছে।
