দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে
মোঃ ইসমাইল হোসেন , দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড়
ময়দানে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল আজহ্#া৩৯;র সর্ববৃহৎ
জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারে এই ঈদের জামাতে ৬ লাখ মুসল্লির সমাগম হতে পারে এমনটিই
জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে সকাল ৮টায় আহলে হাদিস অনুসারীদের ঈদুল আজহ্#া৩৯;র
প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠে। আসলে হাদিস অনুসারীদের অপর একটি
বড় ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় লালবাগ ফুটবল খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া জেলা শহরের অর্ধশতাধিক ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহ্#া৩৯;র নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঐতিহাসিক গোর-এ শহিদ ময়দানে ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে সর্ববৃহৎ এই ঈদগাহ মিনারের উদ্যোক্তা
ও পরিকল্পনাকারী এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি
গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, আধুনিক স্থাপত্য শৈলী সমৃদ্ধ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত এবার
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহিদ বড় ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদুল আজহ্#া৩৯;র নামাজকে কেন্দ্র
করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করে হয়েছে। মুসল্লীদের
নিরাপত্তার জন্য নিশ্ধিসঢ়;ছদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বড় মাঠকে সিসিটিভি ক্যামেরার
আওতায় আনা হয়েছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এবার মুসল্লিদের জন্য তিনি দ্#ু৩৯;টি স্পেশাল
ট্রেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যাতে মুসল্লীরা এই ঈদগাহে ট্রেনে করে আসতে পারেন এবং
নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফিরতে পারেন।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির
সার্বিক দিক নির্দেশনায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এবং পুলিশ সুপারের আন্তরিক
সহযোগিতায় দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত। গতবারের চেয়ে
আমরা এবার আরও বেশী মুসল্লির সমাগম আশা করছি। ইতিমধ্যে আমরা প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত
সম্পন্ন করার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠে স্থাপন
করা হয়েছে ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়াও মাঠের মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।
তিনি জানান, এই জামাতে নামাজ আদায়ে মুসল্লীদের সুবিধার্থে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে
একটি এবং ঠাকুরগাঁও থেকে আরেকটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এশিয়ার এই সর্ববৃহৎ জামাত অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এক
সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক শাকিল
আহমেদ, পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ, দিনাজপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আবু তৈয়ব দুলালসহ
দিনাজপুরের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঈদের জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করা হয়।
সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা শামসুল আলম কাশেমী। উল্লেখ্য, প্রায় ২২ একর
আয়তনের দিনাজপুর গোড়-এ শহিদ বড় ময়দানে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই মাঠে ঈদের
জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে স্থানীয় সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম
এমপি মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেন। এরপর ২০১৭ সালে সম্পন্ন হয় নির্মাণকাজ।
নির্মিত ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনার তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গম্বুজগুলোর দুই
পাশে ৬০ ফুট করে দ্#ু৩৯;টি মিনার, মাঝের দ্#ু৩৯;টি মিনার ৫০ ফুট করে। ঈদগাহ মাঠের মিনারের প্রথম
গম্বুজ অর্থাৎ মেহেরাবের (যেখানে ইমাম দাঁড়াবেন) উচ্চতা ৪৭ ফিট। এর সঙ্গে রয়েছে আরও ৪৯টি
গম্বুজ।
এছাড়া ৫১৬ ফিট লম্বায় ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় ঈদগাহ মাঠ
দ্বিতীয়টি নেই। এর আগে ঈদগাহের মধ্যে দিনাজপুর স্টেশন ক্লাব থাকলেও এবার তা সরানো হয়েছে।
ফলে বেড়েছে ঈদগাহ-এর আয়তন। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি
গম্বুজ ও মিনারে রয়েছে বৈদ্যুতিক লাইটিং। রাত হলে ঈদগাহ মিনার আলোকিত হয়ে ওঠে। ২০১৭ সাল
থেকে প্রতিবারে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করছেন দিনাজপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা
ও উপজেলা হতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে দুই বছর ঈদের জামাত
অনুষ্ঠিত হয়নি। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল
কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুসল্লীদের জন্য ৩্#৩৯;শটি ওজুখানা, ৪০টি টয়লেট ও খাবার পানি সরবরাহের
জন্য ৫টি পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।
