দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন টিকিট কাউন্টার রাজস্ব আয়ের জায়গায় অবৈধ কর্মচারী দারা পরিচালিত হচ্ছে
মো. ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি।।
দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কাউন্টার রাজস্ব আয়ের জায়গায় অবৈধ কর্মচারী দারা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংবিধান কোচিং ট্যারিফ আইনকে না মেনে ব্যক্তিগত আইন বানিয়ে স্টেশন চালাচ্ছেন ষ্টেশন মাস্টার শুখান পুকুর এবি.এম জিয়াউর রহমান, দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় ৬বছর অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত (এস.এস) এর দায়িত্বে রয়েছেন, যা (জি.এস রুল, জি.আর রুল) পরিপন্থি।
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় দ্বিতীয় শ্রেণীর মেইল ও লোকাল আপ এন্ড ডাউন ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের সামনে হঠাৎ কাউন্টারের সামনে নির্ধারিত ভাড়া মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য চাওয়ায় যাত্রী সাধারণের হৈচৈ বেধে যায়, যাত্রী সাধারণের সাথে স্টেশন ট্র্যাফিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জানাযায়, দ্বিতীয় শ্রেণীর মেইল লোকাল কাউন্টার টিকিট বিক্রয় করছেন টি.এল.আর (পয়েন্টস মেন) এনামুল হক, তার কাজ ট্রেন যাওয়া এবং আসার লাইন চেঞ্জ করা, সে বুকিং ক্লার্কের চাকুরি করেন না, তাহলে রেলওয়ে টিকিট কাউন্টারে বসে যাত্রী সাধারণের নিকট টিকিট বিক্রয় করছে কোন আইনে, এমন প্রশ্নে এবি.এম জিয়াউর রহমান উত্তর না দিয়ে মিডিয়া কর্মীদের বলেন, স্টেশনের দায়িত্বে আমিই রয়েছি, আমার ব্যক্তিগত আইন দিয়েই স্টেশন চালাবো আপনার করার কি আছে, যেগুলো ছবি এবং ভিডিও করেছেন সেগুলো ডিলিট করে দিন, অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো বলে হুমকি প্রদান করে চলে যান।
ট্রেন যাত্রী দিনাজপুর অবদা কলোনির বাসিন্দা মো. শাহাজাহান আলিসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান, আমাদের গন্তব্যের ভাড়া ২০ টাকার স্থলে ৩০ টাকা দাবি করায় এই বাক বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকৃত বুকিং সহকারী গ্রেড-২ চার জনই স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে প্রাইভেট ছুটি ভোগ করছেন, রেলওয়ে কোচিং ট্যারিফ আইন অনুযায়ী ট্রেন নম্বর অনুযায়ী টিকিটের ভাড়া সংগ্রহ করে ডি.টি.সি- ডেইলি ট্রেন ক্যাশ বইয়ে জমা করতে হবে, হেড বুকিং সহকারীর নিকট জমা প্রদান করবেন এমন বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র উলটো, আপ এন্ড ডাউন ট্রেনের নাম- কা ন কমিউটার, বিরল কমিউটার ট্রেনের টিকিট গড় হিসেবে টাকা জমা করেন, নিয়মিত ট্রেনের আয়ের টাকা দৈনিক হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় পরিদর্শক-হিসাব বিভাগ, এবং ট্র্যাফিক এর বাণিজ্যিক বিভাগের। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিনের আয়ের রিপোর্ট তৈরি হয় না বলে রেল সূত্র জানায়। সচেতন মহল বলেন, দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টার সরকারি রাজস্ব আয়ের জায়গা, সেখানে অবৈধ কর্মচারী দারা পরিচালিত হচ্ছে এটা অবশ্যই আইন বিরোধী এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে সংবিধান পরিপন্থি। সরেজমিনে ডি.টি.সি এবং ডি.টি.সি সামারি অনুসন্ধান করলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।
এ ব্যাপারে লালমনির হাট বিভাগীয় ডিভিশনাল ট্র্যাফিক ও ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার (ডি.টি.ও -ডি.সি.ও ) আব্দুল্লাহ আল মামুন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে রেলওয়ে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
