দিনাজপুর হাউজিং এস্টেটের সাবেক অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

মা.ইসমাইল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি।।
দিনাজপুর হাউজিং এস্টেটের সাবেক অফিস সহকারী মো. নজরুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাকুরি করা
কালীন সময়ে এবং অবসর গ্রহণের পরেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মো. নজরুল ইসলাম মণ্ডলের বিরুদ্ধে আব্দুস সালাম নামে একজন ভুক্তভোগী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের
কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গত ১২জুন করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল এমএলএসএস হিসেবে
১৯৮০ সালে দিনাজপুর হাউজিং এস্টেটে যোগদান করেন। তার জন্ম স্থান রংপুরে। এরপর তিনি ২০০২ সালে
অফিস সহকারী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। পদোন্নতির বিষয়টি নিয়েও রয়েছে জটিলতা। চলতি
মাসে তিনি অবসরে গেছেন। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি ৩৪ বাড়ি বরাদ্দের জন্য ১ কোট ৭০ লক্ষ টাকা
নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই বাড়ি গুলো বরাদ্দ নিয়ে দিতে পারেননি। এছাড়াও তিনি অবসর
গ্রহণের পরও প্রতিনিয়ত অফিস করছেন। এতে করে অফিসে অভিযোগকারীদের সঙ্গে প্রায় তার
বাকবিতণ্ডা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে তিনি দুদকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক
রেখে দুদককে দিয়ে অভিযান চালিয়ে তার অফিসের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করিয়েছেন। তিনি তিন
কন্যা সন্তানের নামে রংপুর ও ঢাকায় প্লট ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন।

অবৈধ পন্থায় পদোন্নতি পাওয়ার পর নজরুল মন্ডল দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মচারী সঙ্গে সক্ষমতা গড়ে
উঠে। এরপর নজরুল মন্ডল শুরু করেন ক্ষমতার অপব্যবহার। তিনি বেপরোয়া ভাবে হাউজিং অফিসের সকল
কর্মকর্তা কর্মচারীকে জিম্মি করে অবৈধ কাজকর্ম পরিচালনা শুরু করেন। কেউ কোনো কিছু বলতে
গেলে তাদেরকে দুর্নীতি দমনে ফাঁসায় দেওয়ার ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। অবৈধ অর্থ উপার্জনে তিনি

এমনিই মরিয়া হয়ে উঠেছে যে ২০১৯ সালে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকেও
পরিকল্পিতভাবে দুদক কর্তৃক আটক করান। তার কাজের বাধা সৃষ্টি কেউ করে থাকলে তিনি এভাবেই
ফাঁসিয়ে থাকেন। যার কারণে শত অভিযোগ পড়লেও তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলে না। চাকরি করা
কালীন সময়ে তিনি অন্যত্রে বদলি হলেও অবৈধ টাকার ক্ষমতায় সম্প্রতি সময়ে তিনি সে জায়গা থেকে
বদলি নিয়ে পুনরায় পূর্বের স্থানে ফিরে এসে শুরু করেন অবৈধ কার্যক্রম। যার ফলে সে শত কোটি টাকার
সম্পদের মালিক হয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মচারী জানান, তিনি এমএলএসএস পদে চাকুরির সময়
বিভিন্ন ফাইলে নোট দিয়েছে। যা সম্পন্ন ভাবে অবৈধ। অভিযোগকারীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে
তিনি জানান, টাকা প্রধান কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই বরাদ্দ হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মইনুল হক মোতাইদ বলেন,
অভিযোগের কথা শুনেছি। তিনি অবসরে গেছেন। অফিসের চেয়ারে বসে তার কাজ করার কোনো অধিকার
নেই। তা ছাড়া অফিসে বিভিন্ন কাজে যে কোন জনগণ আসতে পারেন।

অভিযোগকারী আব্দুস সালাম উপশহর ৪ নং ব্লকের এল-৩ নং বাসার বাসিন্দা। তিনি বলেন, অনেকেই
অভিযোগ করেছে। কোন লাভ হয়নি। এবার আমি জাতীয় গৃহায়ন, দিনাজপুর ডিভিশনের নির্বাহী
প্রকৌশলীর মাধ্যমে অভিযোগ করলাম দেখা যাক কি হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার
নিকট তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights