দুই শর্তে অনশন ভাঙতে রাজি সোনম ওয়াংচুক
অনলাইন ডেস্ক
টানা তিন সপ্তাহের অনশনের পর অবশেষে অনশন ভাঙতে রাজি হয়েছেন ভারতের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে এর জন্য তিনি দুটি শর্ত দিয়েছেন। গতকাল রবিবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে পাঠানো হাতে লেখা এক বার্তায় তিনি জানান, শর্ত পূরণ হলে সোমবারই অনশন ভাঙবেন।
বার্তায় ওয়াংচুক লিখেছেন, ‘প্রিয় বন্ধু ও সমর্থকরা, আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন আমি কবে অনশন ভাঙব। আগেই বলেছিলাম, ২০ জুলাই আমি অনশন ভাঙব, যদি…।’ এরপরই তিনি নিজের শর্তগুলোর কথা উল্লেখ করেন।
ওয়াংচুক বলেন, সরকার যদি সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করে, অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতারা সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দিতে পারেন, তাহলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন।
তিনি আরও বলেন, শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে অনশন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও নেতারা হাসপাতালে এসে একই আশ্বাস দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।
১৯ জুলাই লেখা ওই বার্তার শেষে ওয়াংচুক অভিযোগ করেন, সফদরজং হাসপাতালে তাঁকে ‘অবৈধভাবে’ আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁর চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো জানান, দুটি শর্ত পূরণ হলেই তাঁর স্বামী অনশন ভাঙবেন। প্রথমত, রাজনৈতিক নেতারা সফদরজং হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। দ্বিতীয়ত, সোমবার শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেবেন।
রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে গীতাঞ্জলি বলেন, ‘যদি রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে গিয়ে সোনমের সঙ্গে দেখা করেন এবং সংসদে শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহির বিষয়টি তোলার আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি আগামীকালই অনশন ভাঙবেন।’
সোমবার সিজেপির ঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির আগে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশেও ওয়াংচুকের বার্তা পৌঁছে দেন তিনি। গীতাঞ্জলি জানান, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ওয়াংচুক। তাঁর ভাষায়, ‘এই আন্দোলনের কোনো অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।’
স্বামীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গীতাঞ্জলি বলেন, ওয়াংচুকের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হলেও তা সফল হয়নি।
এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা তিন সপ্তাহ অনশন চালানোর পর ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দিল্লি পুলিশ। গীতাঞ্জলি অ্যাংমো ও সিজেপির দাবি, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি কোনো ধরনের স্যালাইন বা ড্রিপ নিতেও রাজি হননি।
এদিকে ভারতে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। মে মাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনের ডাক দেয়। সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ২৮ জুন অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ২০ দিনের মাথায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, এই পদক্ষেপেও আন্দোলনের গতি থামেনি; বরং বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে।
ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সদস্যদের অনশন গতকাল রবিবার ২১তম দিনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও অনশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি বানচাল করতে বহিরাগতরা ছদ্মবেশে মিছিলে ঢুকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের উস্কানি দিতে পারে। তাদের দাবি, এমন পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ আন্দোলন দমনের চেষ্টা করতে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি ও নিউজ১৮
