দুর্যোগকবলিত জেলাগুলোতে সরকারের তৎপরতা অব্যাহত

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ধার-পরবর্তী কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে সোমবার এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা এখনো বন্যাকবলিত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি বার্তা প্রচার, অনিরাপদ বসতবাড়ি পরিহার, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, সাপে কাটা প্রতিরোধ, নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার কোথাও পানিবন্দি পরিবার নেই, কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

খাগড়াছড়িতে অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে নতুন করে কোথাও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি এবং নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে এবং বন্যা ও পাহাড়ধস বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার অব্যাহত আছে।

কক্সবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রামুর বাঁকখালী ও চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি।

মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। আকস্মিক বন্যায় জেলার ৫৭ হেক্টর কৃষিজমির ফসল, প্রায় ৪০৫টি পুকুর এবং এলজিইডি নির্মিত ৫৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বন্যা-পরবর্তী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রাঙামাটিতে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভারী বর্ষণের সময় পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে জেলা তথ্য অফিসের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বান্দরবানেও দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ধীরে ধীরে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন।

লামা তথ্য অফিস জানিয়েছে, এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রয়েছে।

রামগড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং নতুন করে কোনো পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কাপ্তাই তথ্য অফিস জানিয়েছে, কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী এসব এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সোমবার সকাল থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে।

সূত্র : বাসস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights