দেয়াল ভাঙতেই মিলল কোটি কোটি ইউরোর সোনা, হতবাক শ্রমিকরা

অনলাইন ডেস্ক

বেলজিয়ামে একটি বাড়ি সংস্কারের সময় বেসমেন্টের দেয়ালের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বার ও মুদ্রা উদ্ধার করেছেন নির্মাণশ্রমিকরা। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক মূল্য ৯০ মিলিয়ন ইউরো।

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের ওই বাড়িতে নতুন পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ বসানোর জন্য দেয়ালে ড্রিল করছিলেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে দেয়ালের ভেতর সিল করা অবস্থায় সোনার বার ও মুদ্রা দেখতে পান তারা।

নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে ১৮ বছর বয়সী কোবি নামের এক তরুণও ছিলেন। তিনি জানান, প্রথমে মুদ্রাগুলোকে ১ ইউরোর কয়েন মনে করেছিলেন। পরে একটি সোনার খণ্ড দেখতে পেয়ে তারা বুঝতে পারেন, দেয়ালের ভেতর আরও বড় কিছু লুকানো রয়েছে।

বেলজিয়ামের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ভিআরটিকে কোবি বলেন, ‘প্রথমে আমি ভেবেছিলাম ওগুলো ১ ইউরোর মুদ্রা। কিন্তু পরে আমরা সেখানে একটি সোনার খণ্ড দেখতে পাই। তখনই বুঝতে পারি, এটি আরও বড় কিছু।’

বিষয়টি জানার পর শ্রমিকরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। সাইট ম্যানেজার মারিও বলেন, এত বেশি কয়েন ও সোনার বার রয়েছে যে এগুলো নিজেদের কাছে রাখা সম্ভব নয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটি তল্লাশি করে উদ্ধার করা সব সোনা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিপুল পরিমাণ সোনা কীভাবে ওই দেয়ালের ভেতর লুকানো হয়েছিল এবং এর প্রকৃত মালিক কে।

সম্পত্তিটির বর্তমান মালিক ডেন্ডারমন্ডের জনকল্যাণমূলক সংস্থা সিএডাব্লিউ ওয়েস্ট-ভ্যান্ডারেন। সংস্থাটি ফ্লেমিশ সম্প্রদায়ের প্রায় ৪৭ হাজার মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে।

সংস্থাটির পরিচালক গিয়ার্ট হিলার্ট বলেন, খবরটি শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত যদি এই সম্পদের মালিকানা তাদের প্রতিষ্ঠানের কাছে আসে, তাহলে তা মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুপ্তধনের সন্ধানে ওই নির্মাণাধীন বাড়িতে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার করা সোনার মালিকানা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

স্থানীয় প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী প্রকৃত মালিক চাইলে পাঁচ বছরের মধ্যে এই গুপ্তধনের দাবি করতে পারবেন। পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ বৈধভাবে মালিকানা দাবি না করলে এবং তদন্তে সোনার সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক পাওয়া না গেলে, দেওয়ানি আইনের আওতায় তা আবিষ্কারকারী ও সম্পত্তির মালিকের মধ্যে ভাগ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এর আগে সোনার প্রকৃত মালিকানা এবং এর উৎস সম্পর্কে তদন্ত শেষ করতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights