ধান কাটার শ্রমিকের সংকট, চরম বিপাকে কৃষক

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ:

প্রতিদিনের ঝড়বৃষ্টি, একসঙ্গে ধান পেকে যাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকার বোরো চাষিরা পড়েছেন চরম বিপাকে। তবে কয়েক দিনের মাঝারি বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ায় যে ধান কাটা হয়েছিল, তা অধিকাংশ পানিতে নষ্ট হয়েছে। কিছু কৃষক তাদের ধান ঘরে তুলেছেন।

প্রায় প্রতিদিন ঝড় বৃষ্টির কারণে সামনে যে ধান আছে তা ঘরে তোলা নিয়ে কৃষক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারপরে শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে।

সরকারি ভর্তকি মূল্যে হারভেস্ট মেশিন থাকলেও তা নগণ্য। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রতি বিঘা ধান কাটতে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে তারা। অথচ সরকার এসব গাড়ির জন্য ভর্তকি দিয়ে তাদেরকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকা রেট বেধে দেয়। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে থেকে বেশি আদায় করছেন। এটি বেশি করছেন হরিনাকুন্ডু উপজেলার হারভেস্ট মেশিনের এক মালিক। যার কারণে শ্রমিকের দামও দুইগুণ-তিনগুণ বেড়ে গেছে। যার কারণে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বেড়ে বর্তমানে ১০০০ থেকে ১২০০০ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০০ থেকে ১১৫০ টাকায় পর্যন্ত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৯০ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন চাল। এরই মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কৃষক তাইজেল হোসেন বলেন, ধান পেকে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির ভয়ে কাটতে পারছি না। কাটা ধান পানিতে বেশি নষ্ট হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এবার জেলার সব উপজেলায় বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। তবে ঝড়-বৃষ্টি হলে কৃষকের দুর্ভোগ বেড়েছে এবং আরও বাড়বে। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights