নকআউট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা প্রশ্নে যা বললেন কেপ ভার্দে কোচ

আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি আগ্নেয় দ্বীপ। জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ। মানচিত্রে খুঁজতে গেলেও অনেকের চোখ এড়িয়ে যায় দেশটির নাম। অথচ সেই ছোট্ট দেশই আজ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়- কেপ ভার্দে। যেখানে ফুটবল ছিল স্বপ্ন, সেখানে আজ বাস্তবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বিশ্বের সেরাদের। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই শেষ ৩২ দলের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখে ফেলেছে এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র।

‘এইচ’ গ্রুপে তিনটি ম্যাচ খেলেও একবারও হারেনি তারা। স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে গোলশূন্য ড্র, উরুগুয়ের মতো দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে ২-২ গোলে আটকে দেওয়া, আর শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের ফল—এই তিনটি ম্যাচ যেন প্রমাণ করে দিয়েছে, ফুটবলে শুধুই নাম নয়, হৃদয়ের সাহসও ম্যাচ জেতাতে পারে। এই সাফল্যের সুবাদে গ্রুপের রানার্স-আপ হিসেবে নকআউটে উঠেছে কেপ ভার্দে। আর ভাগ্যের লিখন এমনই, তাদের সামনে এবার দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিকে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ ফুটবলারের লড়াই।

ম্যাচের আগে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে কথা বলেছেন কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার এই লড়াইটিকে একটি বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন বুবিস্তা। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা এমন একটি দেশ, যার সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। কারণ কেপ ভার্দের অনেক মানুষ সেখানে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করছেন।’

গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র এবং এর আগে উরুগুয়ে ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করে নকআউট নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে। তবে কোচ বুবিস্তার কাছে এটি কোনো ‘রূপকথা’ ছিল না; বরং কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং চাপের মুখে ভেঙে না পড়ার মানসিকতার ওপর ভিত্তি করেই অর্জিত হয়েছে এই সাফল্য।

তিনি বলেন, ‘ছেলেরা যা অর্জন করেছে, তার জন্য আমি গর্বিত। আমাদের সমর্থকেরা এই আনন্দের যোগ্য। আর একটা গোল পেলে আরও ভালো হতো, খুশিটা আরও বাড়ত। ম্যাচটি জেতার জন্য দল সাধ্যমতো সবকিছুই করেছে এবং আমি তাদের ওপর সন্তুষ্ট।’

সাফল্যের এই আনন্দ অবশ্য কিছুটা চমকে যাওয়ার মতোই বলে উল্লেখ করেন তিনি। বুবিস্তা যোগ করেন, ‘এটি কিছুটা চমকে যাওয়ার মতোই ব্যাপার, যদিও প্রথম দুই ম্যাচের পর আমাদের মাথায় সবসময়ই ছিল যে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি। আমরা ছোট একটি দেশ হতে পারি, কিন্তু আমরা যা পেতে চাই তার জন্য লড়াই করি। আমাদের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights