নগরকান্দায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
নগরকান্দায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি পুরোনো হওয়ায় খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা। ছাদ চুঁইয়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। অন্য কোন ভবন না থাকায় এ ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। এতে করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক।
বিদ্যালয়টির নাম রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে অবস্থিত। আশেপাশের গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক মানের দ্বিতল ভবন নির্মিত হলেও এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে রামনগর ইউনিয়নের শিক্ষানুরাগী কতিপয় ব্যক্তির প্রচেষ্টায় যাত্রা শুরু করে রামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুরু থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর টিনের ঘরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলেছে। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। ১৯৮৫ সালে এই বিদ্যালয়ে প্রথম টিনের চাল বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মিত হয়।
২০০০ বিদ্যালয়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মিত হয়। নির্মাণের সময় নিম্নমানের কাজ হয়েছিলো বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিলো। ২০০০ সাল থেকে দুটি ভবনেই চলতো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকার্যক্রম। ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের টিনসেড পাকা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকে চার কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবনেই চলে আসছে বিদ্যালয়ের শ্রেণি ও অফিসিয়াল কার্যক্রম। এ ভবনটিও গত কয়েক বছর ধরে অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনেও জীর্ণতার ছাপ। চারকক্ষের এ ভবনের এক কক্ষ বিদ্যালয়ের অফিস ও শিক্ষক মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চার কক্ষের মধ্যে একটি একেবারেই ছোট। সেটি স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহারের কথা। এখন ছোটো স্টোর রুমও শ্রেণিকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৬ টি ক্লাসের কার্যক্রম চলছে। ভবনের কক্ষের প্রত্যেকটির ছাদের পলেসতারা খসে খসে পড়ছে। ভবনের ওয়ালগুলো বিবর্ণ ও ড্যাম হয়ে গিয়েছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিন দাস জানায়, স্কুলের বিল্ডিং পুরনো। ছাদ খসে খসে পড়ে। আমরা ভয়ে থাকি। এখন আবার বৃষ্টি নামলে পানি পড়ে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আরিফ হোসেন বলেন, আমার ছেলে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছাদ থেকে ইট, সুড়কি খসে খসে পড়ে। আমরা আতঙ্কে থাকি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্নিগ্ধা কেয়া বলেন, বিদ্যালয়ে একটিমাত্র ছোট ভবন রয়েছে। কখন যেনো কী ঘটে যায়। যেখানে বসবাস করি সারাটা দিন, সেখানে কিছুদিন থেকে পলেসতারা খসে পড়ে। এবার বৃষ্টিতে উপর থেকে পানি চু্ঁইয়ে পড়ছে। ইদানীং ভয় হচ্ছে এটা ধসে না পড়ে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মামুন হোসেন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন বেশ কয়েকবছর যাবৎ ব্যবহার অনুপোযোগী। পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। প্রায়ই পলেসতারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির পানি ছাদ ভেদ করে পড়ে। গত কয়েকবছর আগে বৃষ্টির পানি ঠেকাতে বিদ্যালয় উন্নয়নের বার্ষিক টাকা দিয়ে ছাদ মেরামত করেছি। এ বছর আবার বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মাঝে মাঝেই আবেদন করি। কিন্তু ভবন হচ্ছে না।
রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারককারী কর্মকর্তা ও নগরকান্দা উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের খুবই বাজে অবস্থা। কেন যে এতদিন ওই বিদ্যালয়ে ভবন হয়নি, সেটা আমারও প্রশ্ন। ওই ভবনের শোচনীয় অবস্থার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. চুন্নু ফকির বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের ভবন সমস্যা রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি আগামীতে রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুন ভবন পাবে।
