নজরদারি বাড়াবে আইএমএফ
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ বহনের সক্ষমতা মূল্যায়নে বড় পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক। নতুন এ কাঠামোর আওতায় শুধু বৈদেশিক ঋণ নয়; অভ্যন্তরীণ ঋণ, রাজস্ব আদায়, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিও কড়াকড়িভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের মোট সরকারি ঋণের বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎসনির্ভর। ওয়াশিংটনে আইএমএফের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল রাতে তা প্রকাশ করে আইএমএফের সদর দপ্তর।
আইএমএফের নতুন কাঠামোর মূল দিক ও প্রভাব : অভ্যন্তরীণ ঋণে চাপ : ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ জিডিপির ৪১ শতাংশে পৌঁছেছে, যার ৫৩.৬ শতাংশই অভ্যন্তরীণ ঋণ। একই সময়ে এই ঋণের সুদ ও আসল মেটাতে জিডিপির ৪.২ শতাংশ ব্যয় হওয়ায় পরিশোধ সক্ষমতার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট : বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার দেশীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হবে। এতে ব্যবসাবাণিজ্য ও বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা : খেলাপি ঋণ ও পুনর্গঠন ব্যয়ে জর্জরিত ব্যাংক খাতকে চাঙা করতে সরকারি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারের ঋণের বোঝা আরও বাড়াবে।
কম রাজস্ব আদায়ের ঝুঁকি : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬.৯ শতাংশ। রাজস্ব আদায় বাড়াতে না পারলে ঋণনির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের ঋণ শোধের সক্ষমতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।
জলবায়ু ও সরকারি দায়ের যুক্তকরণ : প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় বকেয়া ও গ্যারান্টির প্রভাবও নতুন বিশ্লেষণে যুক্ত করা হবে। এ অবস্থায় আইএমএফের মূল মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সামগ্রিক ঋণঝুঁকি এখনো ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকলেও তা সামলানোর সক্ষমতা বেশ সীমিত। ২০২৭ সালে নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর আগেই কর কাঠামো জোরদার করা, ব্যাংক খাতের প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গতি আনা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
