নড়বড়ে বেড়িবাঁধে উৎকণ্ঠা উপকূলে
সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন।
এদিকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ৪৫-৫০ কিলোমিটার দুর্বল বেড়িবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় আছে। জলোচ্ছ্বাসে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় তিন জেলার ২ হাজার ১৩৭ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে খুলনা জেলায় ২৫-৩০, সাতক্ষীরায় ১০-১২ ও বাগেরহাটে ৮-১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পাউবো খুলনা (পওর বিভাগ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটার ২৫-৩৫ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে জরুরি মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, কৈখালী, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ শরণখোলায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
দাকোপের পানখালি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহমেদ জানান, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নড়বড়ে বাঁধ মেরামত না করতেই নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, ২০২১-২৪ তিন বছরে পাউবো বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় খুলনায় ১৫.৬৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, ১৭.৪১ কিলোমিটার উপকূলীয় সুরক্ষা কাজ, ২৫.৭৪ কিলোমিটার বাঁধের প্রতিরক্ষা কাজ করেছে। কিন্তু টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ঝুঁকি কমেনি। পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, ভদ্রা, কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া, পশুর, শিবসাসহ বিভিন্ন নদনদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি ধারণক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির চাপে তীরে ভাঙন ও জোয়ারভাটার প্রভাবে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাউবো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি মোকাবিলায় দুর্বল ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি মেরামত কাজ চলছে। ভাঙন রোধে পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো স্থানে বাঁধ ভেঙে গেলে তাৎক্ষণিক মেরামত কাজের সহায়তার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ওয়াটাসআপ গ্রুপ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
