নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বাছাইয়ে ভোগান্তি, পার্বতীপুরে ফিরে গেল শতাধিক ক্ষুদে খেলোয়াড় নির্ধারিত সময়ে স্টেডিয়ামে পাওয়া যায়নি সংশ্লিষ্ট কাউকে, অনিশ্চয়তায় বাছাই কার্যক্রম
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর:
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর বাছাইপর্বে অংশ নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছে শতাধিক নিবন্ধিত ক্ষুদে খেলোয়াড়। নির্ধারিত সময়ে বাছাই কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সকাল থেকে অপেক্ষা করেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে শিশু-কিশোর খেলোয়াড়েরা। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে তাদের অভিভাবকদের মধ্যে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পার্বতীপুর পৌর স্টেডিয়ামে বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিতে ফুটবল, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলায় নিবন্ধন করা শিশু-কিশোরেরা অভিভাবকদের সঙ্গে উপস্থিত হয়। মুঠোফোনে পাঠানো বার্তা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তারা স্টেডিয়ামে এলেও দুপুর পর্যন্ত বাছাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিকেলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় তারা।
জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।
নিবন্ধিত ক্ষুদে খেলোয়াড়দের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, ২৭ অক্টোবর সকাল ৯টায় পার্বতীপুর পৌর স্টেডিয়ামে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। সেই বার্তা পেয়ে নির্ধারিত সময়ে স্টেডিয়ামে হাজির হয় তারা। তবে সেখানে কোনো বাছাই কার্যক্রম না হওয়ায় তাদের ফিরে যেতে হয়।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ভলিবল ও ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থী সারন বৃষ্টি হাসদার মা সারা হাসদা বলেন, “মেসেজ পেয়ে সন্তানদের নিয়ে সকাল সকাল পার্বতীপুর পৌর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হই। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাউকে পাইনি। পরে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমার মতো শতাধিক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।”
পার্বতীপুর পৌর স্টেডিয়ামের কেয়ারটেকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। কিন্তু কোনো কার্যক্রম না হওয়ায় তাঁরা ফিরে গেছেন।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, “মেসেজ জেলা থেকে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। পরে মিটিং করে সময় জানানো হবে।”
এদিকে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনাজপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফরিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বাছাই কার্যক্রম শুরু না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পার্বতীপুর ফুটবল একাডেমির পরিচালক শামসের আলী বলেন, মুঠোফোনে বার্তা দিয়ে ক্ষুদে খেলোয়াড়দের ডেকে এনে বাছাই কার্যক্রম না করেই ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।
নির্ধারিত সময়ে বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিশু-কিশোর খেলোয়াড় ও তাঁদের অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রতিভা বিকাশের আশায় নিবন্ধন করে নির্ধারিত স্থানে হাজির হয়েও অংশ নিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এখন কবে নাগাদ বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নতুন সময়সূচি ঘোষণা এবং ভোগান্তিতে পড়া নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
One attachment
• Scanned by Gmail
