নতুন ব্যবসায় আতঙ্কে উদ্যোক্তারা

রাশেদ হোসাইন

বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন এখন তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে আতঙ্কের নাম। সরকারের নানান আশ্বাসের পরও দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। একদিকে জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে আকাশছোঁয়া উৎপাদন ব্যয় এবং চরম অর্থায়ন সংকটের কারণে নতুন কোনো উদ্যোগে হাত দিতে ভয় পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কারখানা করেও গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে অনেক কারখানা যেতে পারছে না উৎপাদনে। বন্ধ হয়েছে অনেক সচল কারখানা। এলাকায় নতুন কোনো ব্যবসা চালু করতে গেলেই স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার গার্মেন্টসের ঝুট (ওয়েস্টেজ) নেওয়াকে কেন্দ্র করে নিয়মিত ঘটছে মারামারি। এসব ঘটনায় লাভ করার চেয়ে অনেক সময় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে দেশের বেসরকারি খাত।

কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম মহানগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে চাঁদার দাবিতে চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপের মালিকের বাসভবনে দুই দফা গুলি চালানো হয়। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে লাঠিমিছিল করেছেন হোসিয়ারিপল্লির ব্যবসায়ীরা। এর পর থেকে ব্যবসাবাণিজ্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে ব্যবসার অঘোষিত খরচ। এসব ঘটনায় নতুন করে ব্যবসা খুলতে অনীহা বাড়ছে উদ্যোক্তাদের। ব্যবসায়ীরা জানান, একটি নতুন শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা নানামুখী বাস্তব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাইসেন্সের অনুমোদন নিতেই আগ্রহ কমে যায় ব্যবসায়ীদের। শুরু থেকে দিতে হয় বিভিন্ন জায়গায় অঘোষিত খরচ। লাইসেন্সের পর প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রকে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এরপর ভ্যাট ও করের নানান প্যাঁচে যায় আরও অঘোষিত খরচ। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের জায়গা ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার তো রয়েছেই। অনেক ক্ষেত্রে শিল্পঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা। নতুন শিল্পে গ্যাসসংযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলোতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সার্বিক স্থানীয় ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখলেও প্রশাসনিক জটিলতা, কর ও ভ্যাট-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎসংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের বিক্রয় বা টার্নওভার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার মো. তারেক জুবায়ের বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির চাকা চলমান রাখতে উদ্যোক্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এ ধারাবাহিকতা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। চাঁদাবাজির হয়রানি প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights