নদী হারাবে পাঙাশ

সাইদ মেমন, বরিশাল

প্রযুক্তির ব্যবহার এখন শুধু উন্নয়নের জন্য নয়, নদীর মৎস্যসম্পদ নিধনেও কাজে লাগছে। স্মার্টফোনের জিপিএস অ্যাপ ব্যবহার করে মেঘনা নদীতে বাঁশের তৈরি দৈত্যাকারের চাঁইয়ের (ফাঁদ) অবস্থান সংরক্ষণ করছেন জেলেরা। এরপর নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সহজেই তুলে আনছেন পাঙাশের পোনায় ভর্তি চাঁই। এতে একবারেই ধরা পড়ছে ২০০ থেকে ৩০০ কেজি পাঙাশের পোনা। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই নদীতে প্রাকৃতিক পাঙাশের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যেতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত নদীতে পোনা ছাড়ে পাঙাশ মাছ। আর এ সময়েই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চাঁই নদীতে বসানো হয়। আগে এসব চাঁইয়ের অবস্থান চিহ্নিত করতে আলাদা জিপিএস ডিভাইস ব্যবহার করা হলেও এখন অধিকাংশ জেলে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা জিপিএস এভারেজ অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এতে নদীর মাঝখানে বসানো শত শত চাঁইয়ের অবস্থান নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। জেলেদের ভাষ্য, বাঁশ দিয়ে তৈরি একেকটি চাঁইয়ের উচ্চতা সাত থেকে আট ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৫ ফুট। ভিতরে পচা শুঁটকি মাছ (মটকা), খৈল, খুদ ও চিড়ার মিশ্রণ টোপ হিসেবে দেওয়া হয়। পরে সামান্য লবণাক্ত মিঠাপানির স্রোতস্বিনী নদীর ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীরে চাঁই বসানো হয়। ভাটার সময় ফেলে রাখা এসব চাঁই জোয়ারের সময় তোলা হয়। বরিশালের হিজলা উপজেলার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো. বাশার বলেন, একেকটি চাঁইয়ে দু-তিনজন মানুষ ঢুকতে পারে। একটি চাঁই থেকেই আড়াই থেকে তিন মণ পর্যন্ত পাঙাশের পোনা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত লাভের আশায় অসাধু ব্যক্তিরা এসব চাঁই ব্যবহার করছে। জেলেদের তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ, ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা এলাকায় এসব চাঁই তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights