নারায়ণপুরে ইয়াবার বিস্তার, অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে সেখানে ইয়াবার কারবার চলছে। এমন অভিযোগের মধ্যেই এক রাতে পুলিশের পৃথক দুটি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৪২৭ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট। এসব অভিযানে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হলেও ৪০০ পিস ইয়াবাসহ অভিযুক্ত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাহারের ঘাট এলাকায় স্থানীয় মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জয়নালের কাছ থেকে ৪০০ পিস ভারতীয় ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্গম চরাঞ্চল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে জয়নাল পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই রাতে কচাকাটা থানার গাবতলা বাজার এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ২৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
একই রাতে দুটি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় নারায়ণপুরসহ সীমান্তঘেঁষা চরাঞ্চলে মাদক কারবারের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম চরাঞ্চল, সীমান্তবর্তী অবস্থান এবং অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। ফলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদকের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো ভারতীয়। সীমান্তবর্তী কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভারত থেকে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। এসব মাদক পরে বিভিন্ন হাত ঘুরে স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির বাইরে থাকার সুযোগ পেলে মাদক কারবারিরা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করতে পারে।
এদিকে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ অভিযুক্ত জয়নাল পালিয়ে যাওয়ায় তার সহযোগী ও মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। পুলিশের অভিযান কেবল মাদক উদ্ধার ও বহনকারীদের গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কারা এসব মাদকের সরবরাহ করছে, কোথা থেকে আসছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক জয়নালকে গ্রেপ্তারের জন্যও অভিযান চলছে।
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ অর্পণ কুমার দাসের নেতৃত্বেও এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পৃথক দুটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ৪২৭ পিস ইয়াবা জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
এক রাতের অভিযানে ৪২৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার এবং একজন কথিত মাদক কারবারির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নারায়ণপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে মাদক কারবারের বিস্তৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পলাতক জয়নালকে দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights