নারী জিমন্যাস্ট আর পুরুষ কোচকে এক কামরা বরাদ্দ, মধ্যরাতে হট্টগোল
অনলাইন ডেস্ক
জাপানের নাগোয়া শহরের মিজুহোপার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে আগামীকাল শনিবার জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস ২০২৬। টুর্নামেন্ট চলবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
টুর্নামেন্ট কেমন হবে, ক্রীড়াবিদরা কেমন করবেন; সেটা এখনই বলা মুশকিল। তবে অব্যবস্থাপনায় আলোচনায় উঠে এসেছে এবারের এশিয়ান গেমস। ভারতীয় দল নাগোয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে এক চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলার সকল সীমা ছাড়িয়ে যায় বৃহস্পতিবার রাতের একটি ঘটনা।
ভারতের নারী জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক এবং তার কোচ অশোক মিশ্র তাদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে চেক-ইন করার সময় একটি অদ্ভুত লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। আয়োজকরা তাঁদের জানান যে, ক্রুজ শিপে তাদের দুইজনকে একই রুম বরাদ্দ করা হয়েছে। অ্যাথলেট এবং সহকারী কর্মীদের মধ্যে এই ধরণের মিশ্র-লিঙ্গের আবাসন ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট হয়ে তারা অবিলম্বে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।
স্থানীয় আয়োজক এবং দলের কর্মকর্তাদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিস্থিতি অমীমাংসিতই থেকে যায়। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন-এর জরুরি হস্তক্ষেপের পর রাত প্রায় দেড়টায় বিকল্প ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে বিশৃঙ্খলার এখানেই শেষ ছিল না। অশোক মিশ্র যখন অবশেষে তার আলাদা রুমের চাবি সংগ্রহ করতে যান, তখন হোটেল কর্মীরা তাকে জানান যে রেজিস্ট্রারে তার বুকিং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ ছিল অফিশিয়াল কাগজপত্রের একটি ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুল। সিস্টেমে তার নামের রেকর্ড থেকে একটি অক্ষর বাদ পড়ে গিয়েছিল। এই করণিক ভুল সংশোধন এবং তার অ্যাক্রেডিটেশন যাচাই করতে আরও ৪৫ মিনিট সময় লেগে যায়, যার ফলে কোচের রুমে গিয়ে বিশ্রাম নিতে নিতে রাত ২টা পেরিয়ে যায়। এনডিটিভির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে প্রণতি নায়েক নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, আবাসন নিয়ে একটা গোলমাল হয়েছিল। রাত ২টার দিকে এটার সমাধান হয়।’
ভারতীয় দল জাপানে পৌঁছানোর পর থেকেই আবাসন সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যার কথা সামনে এসেছে। অনেক অ্যাথলেটকে রুম পাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। এছাড়া প্রশিক্ষণ এবং খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে যে, ভারতীয় কবাডি দলের সদস্যরাও পৌঁছানোর পর একই ধরণের হোটেল গোলমাল এবং দেরিতে চেক-ইনের সম্মুখীন হয়েছিলেন, যা দলের আগমন পর্বের সময় ব্যাপক প্রশাসনিক ও সমন্বয়হীনতার আরেকটি চিত্র তুলে ধরে। খেলাধুলা শুরু হতে চলায় অ্যাথলেট এবং সহকারী কর্মীরা আশা করছেন যে, মাঠের বাইরের এই প্রশাসনিক জটিলতাগুলো এখন কেটে যাবে, যাতে তারা পুরোপুরি পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।
