নিয়ম এমন কেন?

অনলাইন ডেস্ক

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা সমীকরণও আলোচনায় উঠে আসছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ফাইনালের মঞ্চে যদি লিওনেল মেসিরা জায়গা করে নেন, তবে সেই ম্যাচে কোনো ইংলিশ রেফারিকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফিফার বর্তমান নিয়ম ও ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মূলত ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধের স্মৃতি আজও আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে এক গভীর রাজনৈতিক ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, তবুও দুই দেশের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক তিক্ততা ফুটবলের মাঠের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। ফিফা সাধারণত যেকোনো ম্যাচে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দেশগুলোর মুখোমুখি লড়াইয়ে রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাটি বরাবরই সাবধানী ভূমিকা পালন করে থাকে।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র পারফরম্যান্স বা মেধার ভিত্তিতেই রেফারি নির্বাচন করা হয় না; এর পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাও সমান গুরুত্ব পায়। ইংল্যান্ডের সেরা রেফারি মাইকেল অলিভার বা অ্যান্থনি টেইলর চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা যদি ফাইনালে ওঠে, তবে শুধুমাত্র ফকল্যান্ডস ইস্যু এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়াতে ফিফা তাদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

শুধু এই ফাইনালই নয়, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ফিফা এই নিরপেক্ষতার নীতি মেনে চলছে। আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ড বা নরওয়ের কোনো রেফারিকে দায়িত্বে রাখা হয়নি, যাতে পরোক্ষভাবেও কোনো পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন না ওঠে। ফিফার প্রধান রেফারি কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনার নেতৃত্বে রেফারি নিয়োগের বিষয়টি পরিচালিত হয়। সেখানে একজন রেফারির দক্ষতা যেমন বিচার করা হয়, তেমনি তাকে এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হয় না যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসে এই প্রথা মেনে চললে সেটি কোনো বিস্ময়ের বিষয় হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights