‘নিরপেক্ষতায় প্রশ্নবিদ্ধ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি’

অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাছাইয়ে কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। একইসঙ্গে নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত যেসব কর্মকর্তার, বিশেষত রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ ৮টি দাবি জানিয়েছে ফোরামটি।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সদস্য-সচিব ও সরকাটের সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ক্যাডারসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। বিগত তিনটি নির্বাচন ব্যর্থ ও জালিয়াতিপূর্ণ হওয়ায় শাসক শ্রেণির পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে।

শরিফুল আলম বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রার্থিতা বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, প্রার্থিতা বাছাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপেই যদি নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। অতীতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা হারানোর ফলে প্রভাবশালী দল ও প্রার্থীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার আড়ালে প্রার্থিতা বাতিলের কারণে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খোলা মনে ও নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিগত অগণতান্ত্রিক শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মীরা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি করা উচিত।

নির্বাচন কমিশনের কাছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের দাবিগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব কর্মকর্তা, বিশেষ করে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া; নির্বাচনি আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা নিশ্চিত করা; ভোট কারচুপি ও অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও স্বতন্ত্র গাইডলাইন প্রকাশ করা; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে সঙ্গে সঙ্গে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদোন্নতিতে প্রভাব ও প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোতাহার হোসেন, সাবেক সচিব রেজাউল করিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল কাইয়ুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights