নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলল নেতানিয়াহুর দল, ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন ‘চুরির’ অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে এমন অভিযোগ দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এই অভিযোগের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা উঠে এসেছে রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক বিশ্লেষণে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ও তাঁর দলের এমন অবস্থানের পেছনে প্রধানত তিনটি বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন বৃদ্ধি, সরকার গঠনে তাদের নির্ণায়ক ভূমিকা এবং নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় আগাম রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ।
নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে আরব-নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের আসনসংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে প্রায় ১৯টিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং বিরোধী শিবির—কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে চাপে পড়েন নেতানিয়াহু।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিকল্পনা ভোটের আগেই করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমে প্রকাশিত আগাম খবর অনুযায়ী, নির্বাচনে নিশ্চিত জয় না এলে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ফল চ্যালেঞ্জ করার এবং নির্বাচন ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগ তোলার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর। পরবর্তী সময়ে লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, দ্বৈত ভোটদান এবং অবৈধ ‘ভোটার সংহতকরণ সফটওয়্যার’ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার অভিযোগ আনে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি ইসরায়েলি পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন। ফলে আরব ভোটারদের রেকর্ডসংখ্যক উপস্থিতি এবং এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা—এই দুই বিষয়কে তাঁর দলের অভিযোগ তোলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
