নিহতের মোবাইলের সূত্র ধরেই বের হলো ‘ট্রিপল মার্ডারের’ রহস্য, গ্রেফতার ৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনকে হত্যার রহস্য এক মাস পর উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এক নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনভর কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামের মজিদ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আসাদুল শেখ (৪১) এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (৩৮)। তারা পরস্পরের প্রতিবেশী ও আত্মীয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২ আগস্ট রাতে চান্দেরখোলা গ্রামে মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুই দিন পর ৪ আগস্ট ওই বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) ও শাশুড়ি রাশিদা বেগম (৯৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে কচুয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহত মনিরা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি অন্য একজন ব্যবহার করছে। ওই সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুল শেখ ও আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।

শনিবার আরিফ হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসাদুলের বাড়ি থেকে নিহত আহাদ আলী হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদুল, আসাদুল ও বাবু হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয়। জাহিদুল প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আহাদকে আঘাত করেন। পরে মনিরা বেগম ও রাশিদা বেগমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ সময় আসাদুল ও বাবু তাকে সহযোগিতা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই বাড়ি থেকে তিন থেকে চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল ও বাবু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার।

হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, নিহত আহাদের পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে জানা গেছে। ওই সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে নিহত মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদুলের বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি জাহিদুলের স্ত্রী জানতে পারলে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি হয়।

পুলিশের দাবি, ঢাকায় কর্মরত ওই নারীর সঙ্গে জাহিদুলের মোবাইল ফোনে কথোপকথন ও বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি তাঁর স্ত্রী জানতে পারেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। পরবর্তীতে আহাদের পরিবারের সঙ্গে জাহিদুলের সম্পর্কের অবনতি হয়। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদুল আসাদুল ও বাবুকে নিয়ে পরিকল্পনা করে পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights