নিহত তিন মার্কিন সেনার ‘সম্মানে’ ইরানে নতুন দফায় হামলা: ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা ইরানকে ‘খুব কঠিনভাবে’ আঘাত করেছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নিহত তিন মার্কিন সেনার ‘সম্মানার্থে’ এই হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দু’জন জর্ডানে এবং একজন ইরাকে নিহত হন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, টানা নবম রাতের মতো ইরানে নতুন দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের হামলা ও হুমকি কমাতে তারা সামরিক স্থাপনা এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা সিরিয়ায় একটি ‘আকস্মিক হামলা’ চালিয়ে এর জবাব দিয়েছে। এছাড়া জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে অবস্থানরত একটি মার্কিন বিমানকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, তাবরিজ, চাবাহার, কোনারাক, বন্দর মাহশাহর ও বন্দর ইমাম খোমেনিসহ কয়েকটি শহরে মার্কিন হামলা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ট্যাংকার দুটি প্রণালীর একটি ‘অনিরাপদ দক্ষিণ পথ’ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরিত হয়ে থেমে যায়। তবে সেন্টকম এ দাবি অস্বীকার করেছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যতদিন মার্কিন হামলা চলবে ততদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, এমনকি এক ফোঁটা তেল ও গ্যাস পরিবহনও নিরাপদ থাকবে না। এর জবাবে তারা ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ চালাবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করে, উত্তর ইরাকে ইরানের এক হামলায় তাদের একজন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগের দিন জর্ডানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় আরও দুজন মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, একটি অশনাক্ত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি।
