নীরবে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ‘ভেদা মাছ’

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি

দেশীয় মাছের তালিকায় একসময় পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম ছিল ‘ভেদা মাছ’। বর্ষা মৌসুম এলেই জেলেদের জালে ধরা পড়ত এ মাছ। তবে সময়ের ব্যবধানে এখন আর আগের মতো সহজলভ্য নয় ভেদা মাছ। নীরবে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই দেশীয় প্রজাতি। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে আহরণ, আবাসস্থল ধ্বংস এবং পানি ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভেদা মাছ আজ দ্রুত বিপন্ন হয়ে উঠছে।

মাছ পরিচিতি অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে ‘ভেদা’ নামে পরিচিত এই মাছটি অন্য নামেও পরিচিত। কোথাও একে ‘মেনি মাছ’, আবার স্থানভেদে ‘রয়না’ নামেও ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Nandus nandus। পূর্ণবয়স্ক ভেদা মাছের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেখতে বেশ আকর্ষণীয়—শরীর রুপালি বা হালকা ধূসর রঙের, যার ওপর ছড়িয়ে থাকে অসংখ্য কালো দাগ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এ মাছ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলেও জানা যায়।

সম্প্রতি বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের রাজাগঞ্জ বাজারে স্থানীয় হাওরের একটি পুকুর সেচের সময় ধরা পড়া কিছু ভেদা মাছ বিক্রি করতে দেখা যায় এক মাছ বিক্রেতাকে। তিনি জানান, একসঙ্গে এত ভেদা মাছ পাওয়া এখন খুবই বিরল। সচরাচর বাজারে এই মাছ দেখা যায় না।

বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুনগর গ্রামের সঞ্জিত দাস বলেন, আগের তুলনায় মাছ আহরণের জায়গা অনেক কমে গেছে। একসময় প্রচুর পরিমাণে ভেদা মাছ পাওয়া যেত। এখন মাঝে মধ্যে অল্প কিছু পাওয়া যায়। বাজারে এই মাছের চাহিদা এখনো রয়েছে, কারণ এটি খেতে সুস্বাদু।

এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিলুপ্তপ্রায় মিঠাপানির মাছের তালিকায় ভেদা মাছ অন্যতম। একসময় হাওরাঞ্চলে এ মাছের ব্যাপক প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ও সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার, পোনা মাছ নিধন এবং প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে আহরণের কারণে প্রজাতিটি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, পানি দূষণ ও কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব।

তিনি আরও বলেন, যথাযথ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে ভেদা মাছ কেবল স্মৃতিতেই পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights