নীলফামারীতে ওসির উদ্যোগে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা
নীলফামারীপ্রতিনিধি
নীলফামারীতে মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় করেছেন মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে মুচলেকা দিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করছেন তারা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় লালগোলাপ দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাজমুল আলম।
জলঢাকা থানা সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত সাত দিনের সময় দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের নোটিশ দেন ওসি নাজমুল আলম। পুলিশের তালিকায় জলঢাকা উপজেলায় মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা দেখানো হয় ৭৮ জনের।
জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভবনচুর এলাকার সাফিউর রহমান (২৫) জানান, আমি ঘটনা চক্রে মাদকে আসক্ত হই এবং ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি। পরে নিজের ভুল বুঝতে পারি। সম্প্রতি ওসি স্যারের নির্দেশনায় এই পথ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেই। বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে ওসি স্যারকে অঙ্গিকারনামা দিয়ে এই পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। স্যার আমাকে লালগোলাপ উপহার দেন।
মাদক থেকে সরে আসা একই ইউনিয়নের ভবনচুর মরাতিস্তা এলাকার এনামুল হকের স্ত্রী রফিজা বেগম জানান, আমার স্বামী এখন থেকে আর আগের জীবনে জড়াবে না। সম্প্রতি ওসি স্যার বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাদক ছেড়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন। তার পরামর্শে আমার স্বামী মাদকে জড়াবেন না বলে অঙ্গীকার নামা দিয়েছেন।
জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল কমেট চৌধুরী জানান, এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা স্বাগত জানাই। কোন মানুষ যেন মাদকেম আসক্ত না হয়। আমরা উপজেলাকে মাদক মুক্ত দেখতে চাই। আমরা প্রশাসনকে সবরকম সহযোগিতা করবো।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, আমার লক্ষ্য জলঢাকা উপজেলাকে মাদক মুক্ত করা। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীর তালিকা করে তাদের বাড়ি বাড়িতে গিয়ে মাদক ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে আসি। সতর্কও করা হয় অন্যথায় কোন ছাড় নেই। আমার এই আহ্বানে সবাই সাড়া দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, শুধু জলঢাকা নয় নীলফামারী জেলাকে আমরা মাদক মুক্ত করতে চাই। শুধু পুলিশের একার পক্ষে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, সবাইকে পাশে থাকতে হবে। জলঢাকা দিয়ে শুরু পর্যায়ক্রমে সব থানায় এই কার্যক্রম শুরু হবে।
