নুসরাত হত্যায় ফেনীতে বনজ কুমারসহ সাত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যার ঘটনায় সাত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা লোকমানের আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার ১৩ নম্বর আসামি ইমরান হোসেন মামুনের মা নুর নাহার মামলাটি করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে পুলিশের সাবেক ডিআইজি বনজ কুমার, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি শাহ আলম, পিবিআই চট্টগ্রামের কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা, পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, পিবিআই উপ পরিদর্শক রতেপ চন্দ্র দাস ও লুৎফর রহমানকে।
মামলায় পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায় ও মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামিকে মামলায় অব্যাহতি দেয়ার আশ্বাসে আসামিদের পরিবার ও স্বজন থেকে বিভিন্ন ধাপে মোট ৭৭ লাখ টাকাসহ সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তারা। অভিযুক্তরা আসামিদের নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি মূলক জবাবন্দি গ্রহণ করে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ড রায় প্রদান করে নেয়।
সে ঘটনায় কথা উল্লেখ করে মামলার স্বাক্ষী পিবিআই এর উপ পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বাবলু গত ১২ আগস্ট তার ফেসবুক আইডিতে নুসরাত জাহান রাফির হত্যা মামলার ঘটনাটি পুনরায় তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে পোস্ট প্রদান করেন। পোস্টটিতে তিনি বলেন, স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সাক্ষ্য প্রদানে বাধ্য করা হয়। বিচার সকল আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন। ঘটনার সময় আমি ফেনী পিবিআইতে ছিলাম। আমি নিজেও ৬ আসামি গ্রেফতার করেছি। তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের আটকের পর তাদের উপর চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন। তাদের বিভিন্ন রকম প্রলোভন দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে আদালতে স্বীকারোক্তি দিলে তোমাকে জেলে যেতে হবে না। অধিকাংশ আসামি মাদরাসা ছাত্র/ছাত্রী। তারা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে তাদের শেখানো মতো আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
পোস্টটি আসামিদের স্বজনদের নজরে আসলে অভিযুক্ত সাত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নুসরাত হত্যা মামলার ১৩ নম্বর আসামি ইমরান হোসেন মামুনের মা নুর নহার বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বাদী পক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান বলেন, পিবিআইয়ের প্রধান কর্মকর্তা বনজ কুমারসহ এখানকার থানার ওসি শাহ আলম ও অন্যান্য কর্মকর্তা যারা যারা আসেন তারা, চার্জশিট দেয়ার আগে বিভিন্ন সময় বনজ কুমারের কথা বলে ৩০ লাখ টাকা, স্থানীয়ভাবে নিয়েছে ৪৭ লাখ টাকা। আরো অনেক কিছু তাদের কাছ থেকে নিয়ে এসেছে। তারা সিভিল ড্রেসে গিয়ে এই টাকা সেই টাকা লাগবে বলে ভুক্তভোগীদের অনেক জমি বিক্রি করাইছে। বন্ধক দেয়াইছে। টাকা আত্মসাতের জন্য পিবিআই কর্মকর্তারা মামলাটি করাইছেন। একটা ঘটনা যে তারা সাজাইছে এ মামলা থেকে তারা আসামিদের খালাস করে দিবেন মামলাটি গ্রহণ করবে না তাদের বলেছে। আসামিরা স্বীকারোক্তিতে বলেছে তাদের কাছ থেকে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত; গত ২০ জুলাই প্রধান অভিযুক্ত বনজ কুমার অবসরে যান। অপর অভিযুক্তরা পিবিআই এর বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন।
