নেত্রকোনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী-শিশু নির্যাতন, উদ্বেগ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভায় জেলার চিত্র দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক। আশঙ্কাজনক হারে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে বলে উল্লেখ করা হয় সভায়।
আজ রবিবার (১০ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন এডিএম ওয়াহিদুজ্জামান।
জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রৌফ সরকার ও নারী শিশু দমন ট্রাইবুন্যালের পিপি মোহাম্মদ নুরুল কবীর রুবেল জেলার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও বাল্য বিয়েসহ সকল অপরাধের কারণ তুলে ধরেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার মাজাহারুল আমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা বিনতে রফিক, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমাডেন্ট মোহাম্মদ জিন্নাতুল ইসলাম, জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক সাংবাদিক আলপনা বেগম, ‘স্বাবলম্বী’র ব্যবস্থাপক নারী নেত্রী কোহিনুর বেগমসহ সমাজসেবা ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা সম্প্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া নানা লোমহর্ষক ঘটনার বিষয় উল্লেখ করে সচেতনতার পাশাপাশি দ্রুত সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
জেলার মদনে শিশু ধর্ষণে অন্ত:স্বত্তা শিশুটির পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় পিপি মোহাম্মদ নুরুল কবীর রুবেল জানান, জাবনাবন্দীতে সকল তথ্য পরিষ্কার হয়েছে। আসামীর পক্ষ থেকে এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনের কারণে শিশুটি ও তার পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে। তার নিরাপত্তা চাইলে আদালতে আবেদনের মাধ্যমে করতে হবে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নারী ও শিশুর বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। হাসপাতালে একটি নীতিমালা রাখা প্রয়োজন যাতে যে কেউ ছবি তুলে বিব্রত অবস্থায় ফেলতে না পারে। পাশাপাশি প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে তাগাদা দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক নানা ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি। এজন্য প্রতিটি মহল থেকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনায় মহিলা মাদ্রসা মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত করার বা যত্রতত্র গড়ে তোলার বিষয়ে কোনো নীতিমালা রয়েছে কিনা তা নিয়েও আলোচনা হয়।
