নোয়াখালীতে বাড়ছে সন্ত্রাসী তৎপরতা, জনমনে আতঙ্ক
আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী
নোয়াখালীতে আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই কেন্দ্র করে ১২ দিনে বিএনপি নেতাসহ অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও থামছে না সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। একের পর এক গুলি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক। ৬ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটে জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজি আবুল কাশেমকে (৬০) লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ঘনিষ্ঠ সহযোগী, হকার্স মার্কেটের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ইয়াছিন সেন্টু (৪৫)। আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কাশেমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) আ ন ম ইমরান খান জানান, প্রাথমিক ধারণা বিএনপি নেতা কাশেমকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলি তাঁর সহযোগীর বুকে লাগে।
১২ আগস্ট রাতে চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বেগমগঞ্জের আলাইয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সিএনজিচালক রাব্বি হোসেন রাকিবকে (২২) থামিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। বাধা ও চিৎকার করায় তাঁর পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায় তারা। ১৭ আগস্ট রাতে আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মৌশাকপুর গ্রামে একটি গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারণের জন্য যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হন এবং ছররা গুলিতে আহত হন আরও তিনজন। তাঁদের একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যরা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করেনি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন (নাসির) বলেন, ‘বেগমগঞ্জের সাম্প্রতিক গুলির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধের বিষয়েও পুলিশ নজর রাখছে।’ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, ‘নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সমাজমাধ্যমে গুজব, পারিবারিক শিক্ষার ঘাটতি এবং যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাবে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।’
