ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষায় ইউরোপের কয়েকটি দেশে রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলার’ আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে বাল্টিক রাষ্ট্র ও পোল্যান্ডের মধ্যকার অন্তত দুটি দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া ‘উসকানিমূলক’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পশ্চিমা গোয়েন্দারা। তাদের মতে, ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে চাপ বাড়তে থাকায় ক্রেমলিন নতুন কৌশল গ্রহণের চেষ্টা করতে পারে।
গত সোমবার লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, বাল্টিক অঞ্চল কিংবা পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক উসকানির প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসনে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ন্যাটোর আরেক সদস্য দেশের এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদও গত সপ্তাহে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানান। তার ভাষ্য, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কিছু পরিকল্পনা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যখন ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কতটা দৃঢ়—তা যাচাই করতে ন্যাটোর তুলনামূলক ছোট সদস্য রাষ্ট্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তার মতে, পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে এটি পুতিনের শেষ দিকের একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ বাজি’ হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গদানস্কে অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্ক সম্মেলন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর একটি জোট হিসেবে আমরা প্রস্তুতি নিতে চাই।’
লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এখনই দ্বিতীয় কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধফ্রন্ট খোলার সক্ষমতা নেই। তবে তারা ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন বা অন্যান্য সীমিত আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ইউক্রেনকে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতি বার্তা দেওয়া—‘ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ করুন, নইলে আপনাদেরও নিজেদের সমস্যা তৈরি হবে।’
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।
