পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন জাবি শিক্ষার্থী রাইয়ানসহ একই পরিবারের ৩ জন
জাবি প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে সংঘটিত বাসডুবির ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ানসহ তার পরিবারের তিন জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাইয়ানের মরদেহ শনাক্ত করেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা। দুর্ঘটনার সময় একই বাসে রাইয়ানের মা, বড় বোন ও শিশু ভাগ্নেও যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে মা ও শিশু ভাগ্নের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় বড় বোন ডা. সাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাইয়ানের মামা আওয়াল আনোয়ার জানান, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ সময় জীবন বাঁচাতে হুড়োহুড়ির মধ্যে কোনোভাবে বাস থেকে বের হতে পারেন ডা. সাবা। তবে রাইয়ান, তার মা এবং ছোট্ট ভাগ্নে বের হতে পারেনি।
এদিকে রাইয়ানের মৃত্যুতে শোকাহত সহপাঠীরা জানান, রাইয়ান ছিলেন মেধাবী, ভদ্র। ক্যাম্পাসে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সক্রিয় ছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সন্তানতুল্য ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইয়ানের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সে বিভাগের সবার সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিল। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও ব্যাচের কার্যক্রমে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নিত। তার সাথে আমাদের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কিছুদিন আগেই তার বাবা মারা গেছেন, এখন সে ও তার মায়ের মৃত্যু তাদের পরিবারের জন্য আরো বড় আঘাত। আমরা সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’
