পরিযায়ী পাখি ‘কালোবাজ’

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

কাকের মতোই বড়সড়ো। গায়ের রংও কালো। দূর থেকে খালি চোখে দেখলে মনে হয় কাক। কিন্তু না, কাছে গেলেই ভুল পাল্টে যায়। খাড়া ও কালো ঝুঁটি দেখে এদের সহজে চেনা যায়। এরা কালোবাজ পাখি। এই পাখি খুব সুন্দর করে শিকার করে। শিকার চোখে পড়ে গেলে তার আর রক্ষা নেই। দ্রুতগতিতে এসে সেই শিকার বাগে নিয়ে নেয় কালোবাজ। এদের ইংরেজি নাম Black baza.. আর বৈজ্ঞানিক নাম Aviceda leuphotes ।

অঞ্চলভেদে কেউ কেউ এদের বালা বাজ নামেও ডাকেন। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এই পাখিটি সংরক্ষিতের তালিকায় নেই। তবে আমাদের দেশে এরা শীতের বিরল পরিয়ায়ী। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রীমঙ্গলে একটি চা-বাগানে এই কালোবাজ পাখির ছবি তোলেন শৌখিন ফটোগ্রাফার কাজল হাজরা।

এরা লম্বায় ৩৩ সেন্টিমিটার। দেহ নীলচে-কালো। বুকের মাঝে সারি সারি লালচে ডোরা রয়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাই এদের প্রজনন সময়। তখন মাটি থেকে ১৮-২১ মিটার উঁচুতে হালকা ডালপালার সাহায্যে মাচা বানিয়ে ঘাস ও আঁশ বিছিয়ে বাসা বাঁধে। সেই বাসায় ২ থেকে তিনটি ডিম পাড়ে। এরা টিকটিকি, ব্যাঙ, বড় ঘাসফড়িং, বড় পোকা, গিরগিটি, ছোট পাখি, বাদুড় খেয়ে জীবন ধারণ করে। এরা সচরাচর একা, কখনো জোড়া বা ছোট দলে থাকে। তবে সহজে এদের দেখা পাওয়া যায় না। শীতকালে সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে মাঝে মধ্যে এদের দেখা মেলে।
ফটোগ্রাফার কাজল হাজরা বলেন, সচরাচর এদের দেখা যায় না। এটা নির্ভর করে অনেকটা ভাগ্যর ওপর। আর দেখা পেলেও এদের ছবি তোলা কষ্টকর। কারণ কালাবাজ পাখি গাছের ওপরের ডালের মাথায় বসে থাকে। তারা আকাশে ওপরে উড়াউড়ি করে। ভোরের কুয়াশায় খাবারের সন্ধানে বের হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights