পশ্চিমবঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে আত্মহত্যা মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার

অনলাইন ডেস্ক
দলীয় কার্যালয়ে আত্মহত্যা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত আশিস ব্যানার্জি।

রবিবার তার মৃতদেহের সঙ্গে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে।

ওই নোটে আশিস লিখে গিয়েছেন, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।”

নিজের রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপও করেছেন আশিস। পরিবারের সদস্যদের কাউকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক আশিস রাজ্যের মন্ত্রীও ছিলেন। মমতা ব্যানার্জির আমলে তাকে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আশিসের দেহের সঙ্গে যে ‘সুইসাইড নোট’টি পাওয়া গেছে, সেখানে তিনি বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনও প্রতিবাদ করতে পারেননি।

আশিস লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতায় রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।”

তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে ছোট করার জন্য অনেক কিছু করা হয়েছে। সেই প্রচেষ্টাকে ধিক্কার জানিয়েই আশিসের উপলব্ধি রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছে।

চিঠিতে লিখেছেন, “টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হলো, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।”

আশিস ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি মমতার মন্ত্রিসভাতেও ঠাঁই পেয়েছিলেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধানসভায় ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালে রামপুরহাটের বগটুইতে গণহত্যার ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন আশিস। তবে এলাকায় নিজের এলাকায় ভোট সম্পর্কে তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।

২০২৬ সালেও তাকে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। বিজেপি প্রার্থীর কাছে আশিস হেরে যান ২৪ হাজারের বেশি ভোটে। তার পর থেকে রাজনীতিতে তাকে আর তেমন সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights