পাঁচ দিনের গাইবান্ধা

ইমদাদুল হক মিলন
গাইবান্ধার মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা বরাবরই আমার মনে দাগ কাটে। এবারের আগে আরো দুইবার গাইবান্ধায় গিয়েছি।

আগের দুইবারের অভিজ্ঞতাও এবারের মতোই। গাইবান্ধা কিছুটা পিছিয়ে পড়া জেলা। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্রের এদিক-ওদিক অজস্র চর। দ্বিতীয়বার কোচখালীর চর দেখতে গিয়েছিলাম।

গাইবান্ধায় সব সময়ই আমার প্রিয়সঙ্গী অমিতাভ দাস হিমুন। হিমুন কালের কণ্ঠ পত্রিকার ওই জেলার প্রধান। আবৃত্তিশিল্পী ও গীতিকার। তার লেখা অজস্র গান দেশের বিখ্যাত শিল্পীরা গেয়েছেন।

আমাদের শুভসংঘের থিম সংটিও হিমুনের লেখা। গাইবান্ধার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় মানুষ সে। সদা হাসিমুখের, অত্যন্ত বিনয়ী হিমুনের বাচনভঙ্গি এত সুন্দর, সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার কথা শোনে। হিমুন এমন একজন মানুষ, তাকে না ভালোবেসে উপায় নেই।

বসুন্ধরা শুভসংঘের কাজে আমি সারা দেশ ঘুরে বেড়াই।

আমাদের একটি বড় কাজ সেলাই মেশিন বিতরণ। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। উপজেলা পর্যায়ের শুভসংঘের বন্ধুরা অসহায় নারীদের খুঁজে বের করেন। সেখানে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়। ১২ সপ্তাহ ধরে একজন দক্ষ সেলাই প্রশিক্ষক তাঁদের প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষকের মাসিক সম্মানী আমরা বহন করি। কাউকেই কোনো রকমের ব্যয়ভার বহন করতে হয় না। ১২ সপ্তাহ প্রশিক্ষণের পর প্রশিক্ষিত সবাইকেই একটি করে সেলাই মেশিন আমরা উপহার দিই। মেশিনটি ব্যবহার করে তাঁরা যেন তাঁদের জীবনমান উন্নত করতে পারেন। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার নারীকে আমরা স্বাবলম্বী করেছি। প্রতি মাসে ১০০টি করে সেলাই মেশিন এভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।

এ কারণেই গাইবান্ধায় গিয়েছিলাম। সেখানকার চার উপজেলায় ১০০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হলো। গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলা। এই কার্যক্রমে প্রতিদিনই আমার সঙ্গে থেকেছে হিমুন। শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিটি অনুষ্ঠানের চমৎকার আয়োজন করেছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের আগের রাতে আয়োজনস্থলে চলে গেছে তারা। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে সব গোছগাছ করে ফিরেছে। আমরা যখন গভীর ঘুমে, তখন জামান ও হিমুন আর আমাদের শুভসংঘের হাসিব, রাফি ও সাজিদ ঘুমের তোয়াক্কা না করে কাজ করেছে। হয়তো রাত দেড়টা-২টা বেজে গেছে ফিরতে। তার পরও পরদিন সকালে আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। শুভসংঘের জন্য এ রকম মমত্ববোধ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক লাখ ছেলেমেয়ের। তারা এই সংগঠনটিকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসে।

আরেকজন মানুষের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। তার নাম লিমন বাশার। উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত সাংবাদিক। শুরু থেকে দীর্ঘ অনেক বছর লিমন বাশার কালের কণ্ঠের উত্তরবঙ্গের প্রধান হিসেবে কাজ করেছে। এখন সমকাল পত্রিকার উত্তরবঙ্গের প্রধান। লিমন খুব ভালোবাসে আমাকে। শুভসংঘের প্রতিও রয়েছে তার আত্মার টান। যখনই আমি উত্তরবঙ্গের কোনো জেলায় শুভসংঘের কাজে যাই, বগুড়া থেকে লিমন ঠিকই গাড়ি চালিয়ে চলে আসে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য। আসে শুধু ভালোবাসার টানে। ‘শুভসংঘ’ আসলে এক ভালোবাসার নাম। ভালোবেসে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ থাকতে চায়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করা যাবে না।

গোবিন্দগঞ্জের সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামশিদ ইরাম খান, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ, থানা মহিলা দলের সভাপতি মঞ্জুরি আহমেদ ও গোবিন্দগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা। উপজেলার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রদলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা ছিলেন, সমাজসেবকরা ছিলেন। ভালো কাজের সঙ্গে সবাই সম্পৃক্ত থাকেন। এ বড় আশার কথা।

যাঁরা সেলাই মেশিন পান, তাঁদের কারো কারো কথা শুনি আমরা। কেউ কেউ স্বামী পরিত্যক্তা। অনেকেই অল্প বয়সে বিধবা। অনেকেই অতিদরিদ্র বাবার সংসারে গলগ্রহ হয়ে আছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রীও আছে। ভয়াবহ জীবনযুুদ্ধের মধ্য দিয়ে তারা দিনাতিপাত করছে। এই মানুষগুলোর অসহায়ত্বের কথা শুনে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। তাদের হাতে একটি সেলাই মেশিন তুলে দিতে পেরে মনে হয়, তাদের জীবন চলার পথে মানুষটিকে আমরা একটুখানি এগিয়ে দিলাম।

পরের অনুষ্ঠান হয়েছিল সুন্দরগঞ্জের সরোবর পার্কে। এই পার্কটির সৌন্দর্য বলে শেষ করা যাবে না। তিন দিকে বিল। বিলের মাঝখান দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ চলে গেছে পার্কে। তাকালে মনে হয়, বিশাল খোলা বিলের মাঝখানে দ্বীপের মতো জেগে আছে শখানেক বিঘার ওপর পার্কটি। সম্ভবত এ কারণেই নাম সরোবর পার্ক। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতার নাম আরেফিন আজিজ সরদার। ডাকনাম সিন্টু। অসামান্য রুচির অধিকারী মানুষটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা। হাজারখানেক দুর্লভ গাছ আছে তাঁর পার্কে। ওই সব গাছের পাশাপাশি আছে দেশীয় সব রকমের ফুলের গাছ। ছোট-বড় তিনটি পুকুর আছে। ফুলে ফুলে ছেয়ে আছে চারদিক। পদ্মফোটা পুকুরধারে কাঠের ভারী সুন্দর একটি হলরুম। সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠান। আরেফিন সাহেবের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিদ্রোহকুমার কুন্ডু, ধুবনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেলিম রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল মান্নান আকন্দ, শুভসংঘের স্বপ্নময় সোনারায়। সভাপতিত্ব করেন মিজানুর রহমান মিজান। সেলাই মেশিন বিতরণ শেষে স্থানীয় শিল্পীদের চমৎকার একটি গানের অনুষ্ঠান হলো। ওরকম অপরূপ পরিবেশে শুভসংঘের আর কোনো আয়োজন কখনো হয়নি। এই আয়োজনের কৃতিত্ব আরেফিন আজিজ সাহেবের। আমরা বিশেষভাবে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

পলাশবাড়ীর আয়োজনটি হয়েছিল উপজেলা অডিটরিয়ামে। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার, সমাজসেবা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম রুবেল ও সাবরেজিস্ট্রার সায়মুম মুসতারী। এই আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন পলাশবাড়ীর শুভসংঘের সভাপতি সুরুজ হক লিটন। ব্যক্তিজীবনে লিটন একজন ফুটবল কোচ। তাঁর টিমের মেয়ে খেলোয়াড়রাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা সদরের অনুষ্ঠানটি হয়েছিল ২৬ জুলাই রবিবার গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে। অমিতাভ দাস হিমুনের সভাপতিত্ব এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা ও নাট্যকর্মী মানিক বাহার।

২৬ জুলাই সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে চমৎকার একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গাইবান্ধার কৃতী আটজন মানুষকে সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করেছিল গাইবান্ধা জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘ। যাঁরা সম্মাননা পেলেন তাঁরা হলেন শিরিন আক্তার-বাচিক শিল্পী, মানিক বাহার-নাট্যকর্মী, জুলফিকার চঞ্চল-নাট্যকর্মী, সাথী আকন্দ-চলচ্চিত্র নির্মাতা, এম আবদুস্ সালাম-সমাজ ও মানব কল্যাণ, ফরুক শিয়র চিনু-নাট্যব্যক্তিত্ব এবং হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব-শুভসংঘ সদস্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম। প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা পৌর প্রশাসক মুশফিকুর রহিম, বিশেষ অতিথি লেখক, অধ্যাপক মাজহার উল মান্নান, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসুজ্জামান মোনা ও জেলা কালচারাল কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অমিতাভ দাস হিমুন ও শিরিন আক্তার। এই দুজনের চমৎকার উপস্থাপনা ও স্থানীয় শিল্পীদের গান আর নৃত্যে অনুষ্ঠানটি অসাধারণ হয়ে উঠেছিল। বক্তারা প্রত্যেকেই চমৎকার বক্তব্য দিলেন। আমি আগেও লক্ষ করেছি, গাইবান্ধা শিল্প-সংস্কৃতিতে অতি অগ্রসরমাণ জেলা। এ ক্ষেত্রে এই জেলার মানুষ বহুদূর এগিয়ে আছে।

যে আয়োজন আমাকে সবিশেষ মুগ্ধ করেছে, সেই আয়োজনটি হয়েছিল ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজ’ অডিটরিয়ামে। এই শিক্ষাভবনটি চোখে লেগে থাকার মতো। প্রায় ২৫ বিঘা জমির ওপর দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক অনেকগুলো ভবন। ছাত্র-ছাত্রীদের হোস্টেলগুলো মনোরম। ব্যবস্থাপনা চমৎকার। ছাত্র-শিক্ষকদের মেলবন্ধন অপূর্ব। গাঢ় সবুজ বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ। অজস্র ছায়াদায়ী গাছ আর ফুলে ফুলে ভরে আছে প্রাঙ্গণ। বই পড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় মাত্র এক বছর আগে শুরু হওয়া বিদ্যালয়টি অনেক দূর এগিয়েছে। ছোট্ট অপূর্ব একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলো। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আমি উপভোগ করেছি। নিজে অনেকক্ষণ গল্প করেছি সমবেত ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম। সদা হাসিমুখের মানুষটির স্নিগ্ধ ব্যবহারে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী প্রত্যেকেই মুগ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম আবদুস্ সালাম। তিনি একজন বড়মাপের সমাজসেবক। ৪১ বছর আগে ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সংস্থা দেশের ১৭টি জেলায় নানা ধরনের উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রায় চার লাখ নারী-পুরুষ। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন তিনি। উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার স্কুলবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুকে শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করেছেন। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়তই এগিয়ে চলেছে। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে প্রতিষ্ঠানে। অতি বিনয়ী এম আবদুস্ সালাম কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। এই ধরনের মানুষই দেশ ও সমাজ এগিয়ে নেন। তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাত-আট বছরের ছোট্ট একটি শিশু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কান্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতাটির অসামান্য আবৃত্তি করল। ওইটুকু শিশুর মুখে ওরকম কবিতা আবৃত্তি আমি আর কোনো দিন শুনিনি। সেই শিশুকন্যাটির নাম মৈত্রী দাস। আমি আশা করব, এ রকম মেধাবী শিশুদের প্রতি অভিভাবক ও শিক্ষকরা বিশেষ নজর দেবেন। বিশেষ যত্ন পেলে এ রকম শিশুরা দেশ আলোকিত করবে।

সব মিলিয়ে পাঁচ দিন ছিলাম গাইবান্ধায়। এ ছিল আমার এক অতি আনন্দময় ভ্রমণ। ভ্রমণের মধ্য দিয়ে কত কিছু দেখা হলো, কত কিছু জানা হলো, কত মানুষের দুঃখ-বেদনার কথা শোনা হলো। হরিজন সম্প্রদায়ের এক মেয়ে তাদের সামাজিকভাবে নিগৃহীত হওয়ার কথা যখন বলছিল, শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের সমাজে এখনো কি রয়ে গেছে সম্প্রদায়ের বিভেদ? থাকলে নিশ্চয় আমরা এই বিভেদ একসময় অতিক্রম করে যাব। মেয়েটির কথা শুনে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই অসামান্য কবিতাটির লাইন আমার মনে পড়েছিল ‘মানুষ বড় কাঁদছে, মানুষ হয়ে তুমি তার পাশে এসে দাঁড়াও’। বাংলাদেশের মানুষও সব সময়ই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে, এই আমার বিশ্বাস। সমাজের বিভেদ দূর করবে, এই আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights