পাকিস্তানে এক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা পাকিস্তানে এক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন দেশটির একটি আদালত।

বুধবার ইসলামাবাদের সিনিয়র সিভিল জজ আব্বাস শাহ এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সাইবার অপরাধ মামলায় তার বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। মামলাটি প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট-এর আওতায় জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত কর্তৃপক্ষের কাছে নথিভুক্ত হয়েছে।

আদালত জানিয়েছেন, সমন পাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার আদালতে হাজির হননি, যার কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারই প্রথম নয়; গত ৪ জানুয়ারি একই মামলায় আদালত সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। কারণ তিনি আদালতের নিয়মিত সমন উপেক্ষা করেছিলেন এবং বৈধ কারণ ছাড়াই আদালতে হাজির হওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

আদালত আরও জানিয়েছেন, বহুবার সুযোগ দেওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী আদালতের নির্দেশ মানেননি এবং মামলার অভিযোগের জবাব দেননি। বিচারকের মতে তার এমন ধারাবাহিক অনুপস্থিতি আইন প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছাকৃত চেষ্টারই পরিচায়ক।

আরও যেসব মামলায় আসামি মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি
এদিকে, সাইবার মামলার পাশাপাশি সোহাইল আফ্রিদির বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসলামাবাদে ২৬ নভেম্বরের বিক্ষোভে ভূমিকা নিয়েও তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে মামলা আছে।

এছাড়া খাইবার পাখতুনখাওয়ার একটি জাতীয় পরিষদ আসনের উপনির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেও নির্বাচন কমিশনে তার বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা রয়েছে।

পেশোয়ার হাইকোর্ট ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

হারিপুর উপনির্বাচনের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নোটিস চ্যালেঞ্জ করে মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। দুই সদস্যের বেঞ্চ ওই রিটের শুনানি করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আইনজীবী জানান, যেই বক্তব্যের জন্য নির্বাচন কমিশন নোটিস দিয়েছিল, তা উপনির্বাচনী এলাকার বাইরে দেওয়া হয়েছিল এবং একই সময় তিনি প্রদেশব্যাপী উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করে করছিলেন। সূত্র: ডন নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights