পানামা খালে লাইন ভাঙতে এক জাহাজেরই খরচ হলো ৪০ লাখ ডলার
অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের প্রধান দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট—হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করা পানামা খালকে বিকল্প রুট হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তেল, গ্যাস ও রাসায়নিকের ক্রেতা-বিক্রেতারা। ফলে সেখানে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। আর এই দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে আগে যাওয়ার জন্য নিলামে ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে একটি কনটেইনার জাহাজ!
গোপনীয় তথ্যের বরাতে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, প্রায় রেকর্ড পরিমাণ এই অর্থ দিয়েছে ‘সিসপ্যান বেনিফ্যাক্টর’ নামের একটি জাহাজের মালিকপক্ষ। সাধারণত নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সিরিয়াল বুক করে খাল পার হতে হয়। তবে কর্তৃপক্ষ লাইন এড়ানোর জন্য নিলাম প্রক্রিয়ারও সুযোগ দেয়। গত সোমবার সিসপ্যান বেনিফ্যাক্টর ৪০ লাখ ডলার দিয়ে যে লাইন কেটেছে, তা গত এক সপ্তাহের গড়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
ব্লুমবার্গের ডেটা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা জাহাজটি মঙ্গলবার খালের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশে উত্তর দিকে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।
তবে টাকা দেওয়ার বিষয়ে সিসপ্যান কোনো মন্তব্য করেনি।
যানজটের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত তেল ও সার বহনকারী নিওপ্যানাম্যাক্স আকারের বড় জাহাজগুলোকে বুকিং ছাড়া খাল পার হতে ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মে মাসের পর প্রশান্ত থেকে আটলান্টিকমুখী ট্রানজিটে এটা সর্বোচ্চ অপেক্ষার সময়।
নির্দিষ্ট নিলামটি নিয়ে মন্তব্য না করলেও খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাড়তি চাপে নিলামের দর ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে এল নিনোর প্রভাবে কম বৃষ্টিপাত। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বড় জাহাজ চলাচলের ড্রাফট বা পানির স্তরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
