পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী

অনলাইন ডেস্ক

সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পো, ইদলিব ও হামায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণের মুখে শুরুতে পিছু হটলেও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে,বিদ্রোহীদের এই অগ্রযাত্রার প্রচেষ্টা বাধা দিতে সিরিয়ান ও রুশ বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। শনিবার থেকে তারা বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশ ও আলেপ্পোতে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে,‘মিলিটারি অপারেশন কমান্ড’ নামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ বলেছেন, মিত্র রাশিয়া ও ইরানকে নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে সরকারি বাহিনী।

লড়াই নিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেন, সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রাখতে সিরিয়া প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। সন্ত্রাসীদের আক্রমণ যত বড়ই হোক মিত্রদের সহায়তায় সিরিয়া এ প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম।

এদিকে রবিবার(২ ডিসেম্বর) সিরিয়ার বিরোধী নেতা হাদি আল-বাহরি ইস্তাম্বুল থেকে বলেছেন, সিরিয়া সরকার জাতিসংঘের প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমাধানে রাজি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্রোহীরা লড়াই চালিয়ে যাবে।

সিরিয়ার সশস্ত্র সংগঠন হায়াত তাহরির-আল-শাম (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা গেলো কয়েকদিনের সংঘাতের জেরে আলেপ্পো শহরের অধিকাংশ এলাকা দখলে নেওয়ার পর এবার উত্তরাঞ্চলের প্রদেশ হামার দিকে এগোচ্ছে। রবিবার (১ ডিসেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদ সংস্থা সানা এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার এক আকস্মিক হামলার মাধ্যমে সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আলেপ্পোর প্রাণকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে বিদ্রোহীরা। ফলে প্রায় নিয়ন্ত্রণে আসা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের পরিচালক রামি আবদুল রহমান পরদিন শনিবার বলেন, আলেপ্পো শহরের অর্ধেকই এখন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) ও এর মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

এর ফলে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। সিরিয়ার আলেপ্পোতে থাকা দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রাসাদ দখল করেছে বিদ্রোহীরা। এর মধ্য দিয়ে আলেপ্পোতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।

বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে আসাদ সরকারের বাহিনী তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারছে না। সিরিয়া সরকারের সমর্থক রাশিয়া ও ইরান নিজ দেশের সংঘাত নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় সিরিয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে গত আট বছরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এটি।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখছে। তারা আসাদ সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে যাবে। ইরানের পক্ষ থেকেও একই রকম ঘোষণা এসেছে। ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে যৌথভাবে বিমান হামলা শুরু করেছে সিরিয়া ও তাদের মিত্র রাশিয়া। ইরাক থেকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীও সিরিয়ার বাহিনীকে সহায়তায় যুক্ত হচ্ছে।

গত রবিবার দেশটির উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছে। রুশ সংবাদমাধ্যম তাস রাশিয়ার হামলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিদ্রোহের নেতৃত্বে রয়েছে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। সংগঠনটি সিরিয়ায় সাবেক আল–কায়েদার সমর্থনপুষ্ট। এটি আল-নুসরা নামেও পরিচিত। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত কয়েকটি গ্রুপ। বিদ্রোহী গ্রুপে আছে তুরস্কভিত্তিক ফ্রি সিরিয়ান আর্মি, কুর্দি যোদ্ধাদের সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের মতো সশস্ত্র গ্রুপ। এ গ্রুপগুলো তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights