পাল্টা জবাব: জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অনলাইন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আবারও পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একযোগে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরান। সোমবার ভোরে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্টেস) ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যৌথভাবে এ হামলা চালায়। যার অংশ হিসেবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত বিভিন্ন ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করা হয়েছে।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সুনির্দিষ্টভাবে শত্রু গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর এই হামলা চালানো হয়। আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। সেখানে একটি হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতেও হামলার চালানো হয়েছে।

আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের নৌ-অভিযানের অংশ হিসেবে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। জাহাজ দুটির বিরুদ্ধে ট্র্যাকিং সিস্টেম অকার্যকর করা, নৌচলাচল নিয়ম লঙ্ঘন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগ জানিয়েছে তেহরান।

‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ও হুঁশিয়ারি
সোমবারের এই হামলার পরপরই প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা জারি করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো প্রতিবেশী দেশ তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহার করতে দিলে, ইরান সেই স্থানকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। এরপর সেখানে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
ইরান এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন মাত্র ২৫ দিন আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রায় প্রতিটি বিধান লঙ্ঘন করেছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের পরিবহন পরিকাঠামো, মাছ ধরার নৌকা, পণ্যবাহী জাহাজ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যা স্পষ্ট ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান।

এর আগে, রবিবার ভোরবেলায় ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা নস্যাৎ করতে এ হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই হামলায় হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকা বিশেষ করে সিরিক, কেশম দ্বীপ, জাস্ক এবং বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

গত শনিবার রাতেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তীব্র হামলা চালিয়ে ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।

সূত্র: টিআরটি, আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights