পিঠ চুলকিয়ে ঘণ্টায় আয় ১২ হাজার টাকা!

অনলাইন ডেস্ক

পিঠ চুলকালে যতক্ষণ না হাতের কাছে কিছু দিয়ে মনের সুখে চুলকানো যায় ততক্ষণ যেন শান্তি নেই। মাঝেমধ্যেই বাড়ির বড়দের মুখে শোনা যায়, ‘পিঠটা একটু চুলকে দিবি!’ এই আবদার মেটাতে গিয়ে কখনও কখনও আবার ছোটরা বিরক্তও হয়। আর আশেপাশে কেউ যদি না থাকে তাহলে নিজেই কোনও কিছুর সহায়তায় পিঠ চুলকানোর কাজটা সেরে নেন।

যদি বলা হয়, মানুষের এই ভোগান্তিরও সমাধান এখন সম্ভব। এমন অনেকেই আছেন যারা অর্থের বিনিময় পিঠ চুলকে দিতে পারেন, এটাই তাদের পেশা। এই পেশায় আয়ও কম হয় না। প্রতি ঘণ্টায় বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজারেরও বেশি টাকা রোজগার করা যায়।

বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও সত্যি। বিদেশে অনেকেই এই পেশা বেছে নিচ্ছেন। বিদেশে এই পেশার নাম ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’। নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রশিক্ষিত পেশাদাররা স্টুডিও এবং স্পা-তে ‘স্ক্র্যাচিং সেশন’ অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় ধরে পিঠ চুলকে দেওয়ার সেশন পরিচালনা করেন। প্রতি ঘণ্টার জন্য ১০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২,২২৬ টাকা) পারিশ্রমিক নেন তারা। গ্রাহকেরা ঠিক সেভাবেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেন, যেভাবে তারা মাসাজ বা ফেসিয়ালের জন্য করেন। তবে মালিশ করার পরিবর্তে এখানে মনোযোগ দেওয়া হয় নখের হালকা স্পর্শের দিকে, মাথার ত্বকে আলতো হাতে মালিশ করার ওপর।

এর উদ্দেশ্য এলোমেলোভাবে চুলকানো নয়। এই সেশনগুলোতে ধীর গতিতে দক্ষতার সঙ্গে শরীরের ওপর নখ বোলানো হয়। এই পদ্ধতি স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা থেকে জানা যায়, ‘স্ক্র্যাচ থেরাপি’তে ত্বক ও মস্তিষ্কের যোগাযোগের প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানো হয়। ত্বকের ওপর আলতো হাতে নখের আঁচড় মস্তিষ্কে আরামের বার্তা পাঠায়।। হালকা চুলকানো সংবেদী স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে, যা মস্তিষ্কে আনন্দের সঙ্কেত পাঠায়। এর ফলে এন্ডরফিন ও সেরোটোনিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। এই রাসায়নিকগুলো মেজাজ ভাল করে, মানসিক চাপ হ্রাস করে আর ভাল ঘুমের আমেজ আনতেও সাহায্য করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার কারণে ‘স্ক্র্যাচ থেরাপির’ চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। স্ক্র্যাচ থেরাপি কখনও কখনও পুরো শরীরেও করা হয়। সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights