পিয়াজের ঘোড়া দৌড়ে ক্রেতা শূন্য খাতুনগঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

পিয়াজের দামের ঘোড়া দৌড়ের কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকার বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে কমেছে ক্রেতাদের আনাঘোনা। দাম বেশি হওয়ায় বাজারে ছিল না পিয়াজের পাইকার ক্রেতা। ফলে পিয়াজ বিক্রি তুলনামূলক ভাবে নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। ক্রেতাদের উপস্থিতি কম হলেও রবিবার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পিয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।

চাক্তাই খাতুনঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘রবিবার অন্যান্য ভোগ্য পণ্যের বেচা-বিক্রি স্বাভাবিক থাকলেও পিয়াজের ক্রেতা ছিল খুবই কম। অনেক ক্রেতা এসে দাম জিজ্ঞাসা করে পিয়াজ না কিনে চলে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে পিয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে সরকারি ভাবে। তা না হলে পিয়াজের দাম আরও বেড়ে যাবে।’
সরেজমিনে দেশের অন্যতম পাইকার বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জে গিয়ে দেয়া যায়-পিয়াজ নেই অধিকাংশ আড়তে। দেশের অন্যতম পাইকার বাজারে চিরাচরিত ব্যস্ততা দেখা গেলেও পিয়াজের ক্রেতার উপস্থিতি ছিল নগন্য। অধিকাংশ আড়তে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে পিয়াজের স্টক শেষ হওয়ার নোটিশ। যে সব আড়তে পিয়াজ করছে তারা বিক্রি করছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।

চট্টগ্রাম সমুন্দ্র বন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘গত জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দিয়ে ২ হাজার ৫১৭ মে টন পিয়াজ আমদানি হয়েছে। যার মধ্যে পাকিস্তান থেকে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ১৯১ মেট্রিক টন। বাকি পিয়াজ আনা হয়েছে চীন থেকে।’

দেশে বছরে পিয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু সর্বশেষ অর্থ বছরের ৩৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি পিয়াজ উৎপাদন করে পাবনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, বগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা। কিন্তু সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও শুকিয়ে যাওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পিয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। তাই দেশের চাহিদা পূরণ করতে প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন পিয়াজ আমদানি করতে হয়। আমদানি করা পিয়াজের উল্লেখযোগ্য আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। এছাড়া মিয়ানমার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং চীন থেকেও কিছু কিছু ব্যবসায়ী পিয়াজ আমদানি করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights