পুরোনো নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র, এটাই হতাশার প্রমাণ : ইরান

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিকে ‘হতাশার প্রকাশ’ হিসেবে দেখছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞাও ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না।

রবিবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আরাঘচি বলেন, সামরিক অভিযান থেকে সরে আবার পুরোনো নিষেধাজ্ঞার পথে ফিরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।

এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন তিনি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর ইরানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেও তেহরান পিছু হটেনি বলে দাবি করেছেন আরাঘচি। তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটিতে কার্যত অবরোধ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। সামরিক অভিযান থেকে সরে এসে নিষেধাজ্ঞার পুরোনো কৌশলে ফিরে যাওয়াকে তিনি ওয়াশিংটনের হতাশার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যায্য ও সম্মানজনক কোনো সমাধানে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সম্মানের ভিত্তিতে আলোচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরান কখনো ভয় পায়নি। অবরোধ কিংবা সামরিক অভিযান—যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সব পদক্ষেপই ব্যর্থ হয়েছে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগও ব্যর্থ হবে বলে দাবি করেন তিনি।

চীনকে সহযোগিতা না করার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চীনকেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। তবে বেইজিং ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন বলে জানিয়েছে ইরান। চলমান সংঘাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিও আলোচনায় আসতে পারে।

এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তার দাবি, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে তেহরান এখনো ‘সঠিক চুক্তি’ করতে প্রস্তুত নয়।

সূত্র : রয়টার্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights