পুরো পারস্য উপসাগরে মাইন পাতার হুমকি তেহরানের
অনলাইন ডেস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের উপকূল বা দ্বীপগুলোতে কোনো ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে, তবে পুরো পারস্য উপসাগর মাইন দিয়ে স্থবির করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সংস্থা ‘ডিফেন্স কাউন্সিল’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে যে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা চালানো হলে পারস্য উপসাগরের সমস্ত যোগাযোগ পথ ও নৌপথ বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন দিয়ে ব্লক করে দেওয়া হবে।
বিশেষ করে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল বা সেখানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনার খবরের পর তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউজ থেকে ইতিমধ্যে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার ভোরে শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয়। ইরান স্পষ্ট করেছে, শত্রুভাবাপন্ন দেশ এবং ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের নৌযানগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি কার্যকর করেন, তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকট এবং দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেহরান সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং আগ্রাসন মোকাবিলায় তারা সমপর্যায়ের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর।
