পুলিশে সরাসরি ৪ হাজার এসআই নিয়োগের উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশে প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার বিধি উপেক্ষা করে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের জনবল পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যমান পুলিশ রেগুলেশনস (পিআরবি), ১৯৪৩-এর প্রবিধান ৭৪১(বি) সংশোধন করে সরাসরি এসআই নিয়োগ দিতে চায় সরকার। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পুলিশের এসআই পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এজন্য পিআরবির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর আজ প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে উঠবে প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে। প্রস্তাব অনুমোদনের পর দ্রুতই এই নিয়োগ কার্যক্রম করতে পারবে পুলিশ সদর দপ্তর। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৭৯ সালের প্রবিধি সংশোধন করতে হলে প্রথমে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর সেটি এখন সচিব কমিটিতে উঠতে যাচ্ছে। সচিব কমিটি অনুমোদন দিলে সংশোধিত বিধিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করা হবে জানা গেছে। প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি হলো, ১৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি, যেখানে সরকারের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বৈঠকে পদাধিকারবলে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ সৃষ্টি, পদ বিলুপ্তি, দপ্তর-সংস্থার নিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্তকরণের অনুমোদন দেয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এই কমিটি।
পুলিশের সরাসরি নিয়োগ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের জনবল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রবিধি সংশোধনকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কর্মরত নিম্নপদস্থ অনেক কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, সরাসরি এসআই নিয়োগ হলে পদোন্নতির স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হতে পারে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, পুলিশের এসআই পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তবে প্রস্তাবিত সংশোধনে বিভাগীয় কোটা সংকুচিত বা বিলুপ্ত করে সরাসরি নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলে কনস্টেবল, নায়েক ও এএসআই পদমর্যাদার দেড় লক্ষাধিক সদস্যের চাকরিজীবনে পদোন্নতি নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বিপুলসংখ্যক কনস্টেবল ও এএসআই পদোন্নতির মাধ্যমে এসআই হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু নঈম বলেন, এই ৪ হাজার এসআই নিয়োগ হবে সরাসরি। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে যে কার্যক্রম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন সেটি নেওয়া হয়েছে। সরকার চায় জনবল নিয়োগ দিতে এবং সেবা সহজ করতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ অধিশাখা যুগ্ম সচিব মো. লুৎফর রহমান বলেন, সচিব কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের পর অন্যান্য কাজ শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জিও করবে। পরে পুলিশ অধিদপ্তর নিয়োগপ্রক্রিয়া করতে পারবে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় ৪ হাজার এসআই পদ সৃজন করে সেগুলো সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং ফৌজদারি মামলার তদন্তের মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় অপরাধের ধরন ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সাইবার অপরাধ, সংগঠিত অপরাধ, উগ্রবাদ, মাদক কারবারি চক্রসহ বিভিন্ন অপরাধ জটিল আকার ধারণ করেছে।
