পেনাল্টি নিতে ৪ জার্মান ফুটবলারের অস্বীকৃতি, রাখলেন না অধিনায়ক কিমিচের অনুরোধও
স্পোর্টস ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বমঞ্চে জার্মানি মানেই ছিল স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ম্যাচ বের করে নেওয়ার এক অদম্য শক্তি। কিন্তু সেই চেনা জার্মানির পতন কতটা অতল ছোঁয়া, তা আরও একবার প্রমাণ হলো ২০২৬ বিশ্বকাপে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়েছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
তবে এই বিদায়ের চেয়েও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে দলের মধ্যকার চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর আত্মবিশ্বাসের অভাব। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সাডেন ডেথে ষষ্ঠ পেনাল্টি শটটি নিতে দলের চার-চারজন খেলোয়াড় অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এমন একজন ডিফেন্ডার শট নিতে এগিয়ে আসেন, যিনি তার পুরো পেশাদার ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো পেনাল্টি মারেননি।
নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহার একটি দারুণ হেডার ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে বাতিল না হলে হয়তো ম্যাচের ভাগ্য অন্যরকম হতে পারত। টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচ শটের পর যখন দুই দলের স্কোর ৩-৩ সমতায়, তখন শুরু হয় সাডেন ডেথ।
জার্মান গণমাধ্যম বিল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চরম মূহূর্তে ষষ্ঠ পেনাল্টি নেওয়ার জন্য লিওন গোরেটস্কা, ভালদেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন এবং মালিক চাউয়ের মতো ফুটবলারদের বলা হলে তারা চূড়ান্ত অনীহা ও নার্ভাসনেস দেখান। বিশেষ করে ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিওন গোরেটস্কাকে অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ দুইবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি দায়িত্ব নিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানান।
সহ-খেলোয়াড়দের এমন কাপুরুষোচিত পিছুটানের মুখে দলের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এগিয়ে আসেন ডিফেন্ডার জোনাথান তাহ। আন্তর্জাতিক বা ক্লাব ক্যারিয়ারে কোনো পর্যায়েই পেনাল্টি নেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল না এই ডিফেন্ডারের। অনভিজ্ঞতার সেই চাপ সামলাতে না পেরে তাহার নেওয়া শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং প্যারাগুয়ে মেতে ওঠে ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে।
কাই হাভার্টজ, নিক ভল্টমেড এবং সবশেষে জোনাথান তাহার পেনাল্টি মিসের খেসারত দিয়ে আরও একবার হৃদয়ভঙ্গ হলো জার্মানির। এই লজ্জাজনক হারের মধ্য দিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে শেষ ১৬-র মুখ দেখার আগেই বিদায় নিতে হলো একসময়ের ফুটবল পরাশক্তিদের।
