পোশাক খাতে কিছুটা স্বস্তি

রাশেদ হোসাইন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রণীত একটি আইনের অধীনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে নীতিগত অনিশ্চয়তা কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ওপর ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তাই সেই শুল্ক বাতিল হওয়ায় ঢালাওভাবে শুল্ক বাড়ানোর ঝুঁকি কমেছে। যদিও বাতিল হয়ে যাওয়া শুল্কের বদলে নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।

পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা জানান, আদালতের রায় বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি বিধানের মাধ্যমে নতুন করে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। রায় বাস্তবায়ন হলে বৈষম্যমূলক শুল্ক ব্যবস্থার তুলনায় সবার জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আইইইপিএভিত্তিক ‘রেসিপ্রোকাল’ বা পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার পর প্রশাসন দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। একটি স্বল্পমেয়াদি ‘সেতু’ এবং অন্যটি দীর্ঘমেয়াদি ‘দুর্গ’ পরিকল্পনা। স্বল্পমেয়াদে, হোয়াইট হাউস ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে একটি স্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে সাময়িক সমাধান হিসেবে অধিকাংশ আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই সারচার্জ বা অতিরিক্ত শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। এটি সর্বোচ্চ ১৫০ দিন অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত বলবৎ থাকতে পারে। যদি না এর আগে এটি বাতিল বা সংশোধন করা হয়। এই সময়সীমাটি এখন আলোচনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেশার পয়েন্ট হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদে, প্রশাসন উচ্চতর, আরও সুনির্দিষ্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী শুল্ক আরোপের প্রাথমিক হাতিয়ার হিসেবে ‘ধারা ৩০১’ এর আওতায় ‘অসৎ বাণিজ্য তদন্ত’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। সম্ভবত ২০২৬ সালের শেষার্ধে এগুলো কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমেরিকার সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত পরিবর্তনশীল। এ শুল্কনীতি বা আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত কীভাবে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। টাম্প নতুন করে আবার ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না জানি না। যদি আদালত সব শুল্ক বাতিল করে দেন তাহলে বাংলাদেশও লাভবান হবে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য সময় লাগবে। এক সপ্তাহ পর বোঝা যাবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights